25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home কলকাতা রাতে পুজো! সকালেই ‘আগুন’ লক্ষ্মীপুজোর বাজার
কলকাতা

রাতে পুজো! সকালেই ‘আগুন’ লক্ষ্মীপুজোর বাজার

Share
আজ লক্ষ্মী পুজো। নিজস্ব ছবি
Share

কলকাতা: পঞ্জিকা মেনে রবিবারে কোজাগরী পূর্ণিমা।
ধনধান্যের দেবী লক্ষ্মীকে ঘরে বরণ করে নিতে মেতে উঠেছে বাঙালির আট থেকে আশি। কিন্তু পুজোর তোড়জোড় শুরু হতেই আমবাঙালির পকেটে টান। ফি বছরের চেনা ছবি ফিরিয়ে আবার আগুন পুজোর বাজার।
ফল থেকে কাঁচা সবজি কিংবা মাটির প্রদীপ, পুজো উপকরণের আকাশছোঁয়া দামে হাঁসফাঁস অবস্থা মধ্যবিত্তের। মাসের শেষ, হাতে টানাটানি; তার ওপর উপকরণের চড়া দাম যেন গৃহস্থের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে হয়ে দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ থেকে উত্তর, রাজ্যের ছোট-বড় প্রায় সব বাজারের ছবিটাই মোটের ওপর এক। কলকাতার পাইকারি ও খুচরো কেনাবেচার অন্যতম কেন্দ্র শিয়ালদা এবং কোলে মার্কেট ঘুরে দেখা গেল, নৈবেদ্য সাজাতেই অর্ধেকের বেশি বাজেট পার হয়ে যাচ্ছে।
বাজার করতে আসা বাসিন্দার কথায়, “ভেবেছিলাম ছোট করেই পুজো সারব, কিন্তু বাজারে ঢুকে দেখি ফলের দামে আগুন।” বর্তমানে বাজারে আপেল বিকোচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। বেদানা আড়াইশো টাকা কিলো, আতা ২০০ টাকা আর একটি সাধারণ আনারস কিনতে গুণতে হচ্ছে ৮০ টাকা। পুজোর অন্যতম প্রধান সামগ্রী কাঁঠালি কলা বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা জোড়া।
একই আঁচ লেগেছে উত্তরের জেলাগুলিতেও। শিলিগুড়ির বিধান মার্কেট, ফুলেশ্বরী বাজার থেকে শুরু করে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির বাজারে আনাজের পারদ সমান চড়া। খিচুড়ি ভোগের প্রধান উপকরণ ফুলকপি ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ১০০ টাকা এবং কাঁচালঙ্কা ১২০ টাকা কেজি দর হাঁকা হচ্ছে। বরবটি ও শসার দাম ঠেকেছে ৮০ টাকায়। উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের দাবি, একটানা বৃষ্টিতে স্থানীয় চাষ মার খাওয়ায় অন্য রাজ্য ও জেলা থেকে চড়া দামে আনাজ আনতে হচ্ছে।
শুধু ফল বা আনাজপাতিই নয়, মাটির ঘট, প্রদীপ থেকে শুরু করে প্রতিমার সাজসজ্জার উপকরণের দামেও থমকে দাঁড়াচ্ছেন ক্রেতারা। সরু কাগজের মালা ২৫ টাকা, চাঁদমালা ২৫ টাকা, এমনকি একটি ধানের শিষ বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকায়।
প্রতিমার পায়ের ছাপের একটা ছোট স্টিকার বিকোচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়। নাড়ু তৈরির মূল উপাদান নারকেল মিলছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস দরে। বাজার সস্তা বলতে ভরসা শুধু আলু, যা বিকোচ্ছে ১৫ টাকা কেজিতে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি আড়ত থেকেই চড়া দামে মাল তুলতে হচ্ছে। তার ওপর রয়েছে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ। ফলে রবিবারের আগে দর কমার কোনও সম্ভাবনা দেখছেন না তাঁরা। ফলত, সাধ্য ও সাধের টানাপোড়েনে আড়ম্বর ছাঁটাই করে অল্প আয়োজনেই দেবীর আরাধনায় মন দিতে বাধ্য হচ্ছেন প্রৌঢ়া রমা সেনগুপ্তদের মতো সাধারণ পুজো উদ্যোক্তারা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *