কলকাতা: উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনা যে বর্তমান রাজ্য প্রশাসনের গায়ে এক বিরাট ক্ষত তৈরি করেছে, তা সোমবার পরোক্ষে স্বীকার করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
উৎসবের আমেজের মাঝে ১৯টি তাজা প্রাণ চলে যাওয়ার এই ট্র্যাজেডিকে কোনও ভাবেই ‘ছোট ঘটনা’ বা ‘বিরোধী ষড়যন্ত্র’ বলে এড়িয়ে যেতে চান না তিনি। সোমবার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত রাজ্য সরকারের বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠান থেকে নজিরবিহীনভাবে নিজের প্রশাসনের খামতি ও চোরবাগান কাণ্ডের ভয়াবহতাকে সামনে রেখে আগামী দিনে উৎসবের মরসুমে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সর্বস্তরের কাছে খোলা মনে পরামর্শ প্রার্থনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে চোরবাগান কাণ্ডে গভীর শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলের কথা টেনে এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তিনি কড়া আক্রমণ শানান। শুভেন্দুর স্পষ্ট কথা, “এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ। কোনও অপরাধ বা দুর্ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বলে দাগিয়ে দেওয়া কিংবা দায়ীকে আড়াল করার নীতি এই সরকার মেনে চলবে না।”
আহত ২৫ জনকে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা নিয়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কেরও অবসান ঘটান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী খোলামেলাভাবে স্বীকার করে নেন, “ইগো বা অহংকার দেখিয়ে আমরা রোগীদের আটকে রাখিনি। এখানে সরকারি হাসপাতালের তুলনায় প্রাইভেট হাসপাতালের পরিষেবা ভালো ছিল, তাই দ্রুত সবাইকে সুস্থ করে বাড়ি ফেরানো সম্ভব হয়েছে।”
পাশাপাশি তিনি জানান, বিগত সরকারের ব্যর্থতা এবং তোষণ নীতির জন্যই অতীতে বিসর্জনের রুট বা মাইক বাজানো নিয়ে হাই কোর্টে ছুটতে হতো, কিন্তু বর্তমান সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস করবে না। চোরবাগান থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন ছট, জগদ্ধাত্রী ও কার্তিক পুজোয় কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, চোরবাগান বিপর্যয়ের নেপথ্যে কার গাফিলতি ছিল তা নির্ধারণ করতে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো মহাকরণে।
প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠকে চোরবাগান পুজো কমিটির কর্তা ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা হাজির ছিলেন। আগামী ৩১ অক্টোবর (শনিবার) থেকে সিট সরজমিনে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।
কোন পরিস্থিতিতে মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপ তৈরি হয়েছিল, মণ্ডপ ভাঙার ভুয়ো ঘোষণা নাকি বৃষ্টি বিপর্যয়ের কারণ ছিল,সবটাই খতিয়ে দেখে আগামী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করবে এই কমিটি।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে ভুয়ো ঘোষণা করা দুই ঘোষকও রয়েছে। চোরবাগানের বিষাদ মুছে আগামী দিনে সুরক্ষিত উৎসবের আবহ তৈরি করাই এখন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান চ্যালেঞ্জ।
Leave a comment