কলকাতা: অনুপ্রবেশ ইস্যুতেই এবার বিরোধীদের কড়া বার্তা দিল গেরুয়া শিবির। লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝে এসআইআর বা স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন রিভিশন নিয়ে রাজ্য রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি এখন উত্তাল। কংগ্রেস তথা ইন্ডি জোটের লাগাতার বিক্ষোভের মুখে পড়ে পিছু হঠতে নারাজ বিজেপি। উল্টে আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মাঠে নেমে পড়েছে তারা। বিরোধীদের আন্দোলনের পালটা দিয়ে বিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। এই পরিস্থিতিতে পদ্মশিবিরের অন্দরে এখন একটাই স্লোগান জোরালো হয়ে উঠেছে—‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’। অর্থাৎ চিহ্নিতকরণ, ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা এবং দেশ থেকে বিতারিত করা।
বছর কয়েক আগে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেভাবে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন, তারই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ত্রিমুখী নীতি সামনে এনেছিলেন। এবার সেই পুরোনো অস্ত্রেই শান দিয়ে বিরোধীদের কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছে বিজেপি। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি বিশেষ পোস্ট শেয়ার করে গেরুয়া শিবির বুঝিয়ে দিয়েছে, বিরোধীরা যতই বৈধ ভোটার বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলুক না কেন, সরকার নিজেদের অবস্থানে অনড়। তাদের দাবি, বিরোধীদের এই প্রতিবাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো নিজেদের রাজনৈতিক ভোটব্যাঙ্ক তথা অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করা।
আরও পড়ুন: লালকৃষ্ণ নটআউট ৯৯! শুরু শতায়ু কামনায় প্রার্থনা
রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআর বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলি যেভাবে রাজ্যজুড়ে রাজপথ গরম করতে চাইছে, তাতে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ শাসক দল। তেলেঙ্গানার মঞ্চ থেকে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে বিরোধীদের তোপ দেগেছেন, তাতে পরিষ্কার যে এই ইস্যুতে সুর নরম করার কোনও প্রশ্নই নেই। একদিকে বিরোধীদের পথে নেমে প্রতিবাদ এবং অন্যদিকে বিজেপির এই আক্রমণাত্মক ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি দেশের রাজনীতিতে আগামী দিনে বড়সড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, রাহুল গান্ধী ও ইন্ডি জোট এই রাজনৈতিক প্যাঁচ কীভাবে সামাল দেয়।
Leave a comment