কলকাতা: দীপাবলির রাতে আলোর রোশনাইয়ের পাশাপাশি বঙ্গে যে বিষয়টি নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ সবসময় তুঙ্গে থাকে, তা হলো মা কালীর ভোগ। কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠ কিংবা নৈহাটির বড়মা—শক্তির পীঠস্থানগুলিতে কালীপুজোর বিশেষ এই ভোগ অন্যান্য সাধারণ পুজোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কোথাও নিরামিষের জয়জয়কার, তো কোথাও আবার মাছ-মাংস ও সুরা ছাড়া মায়ের ভোগই অসম্পূর্ণ। এই বিশেষ দিনে দেবীর মন জয় করতে এলাহি আয়োজনের প্রস্তুতি চলে মন্দিরে মন্দিরে।
লোকবিশ্বাস ও ঐতিহ্য মেনে তারাপীঠ মন্দিরে কালীপুজোর দিন খুব সকালে ডাবের জল দিয়ে মায়ের ভোগ রান্না শুরু হয়। অন্নভোগে পাঁচ রকম ভাজা, সাদা ভাত, পায়েসের পাশাপাশি আমিষের প্রধান আকর্ষণ থাকে শোল মাছ। বিশ্বাস করা হয়, ভোগের পাতে এই মাছ না থাকলে মা তারা নাকি ভোগ গ্রহণ করেন না। এর সঙ্গে থাকে বলি দেওয়া পাঁঠার মাংস এবং কারণবারি বা সুরা। অন্যদিকে, দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে বলি প্রথা নিষিদ্ধ থাকায় সেখানে সম্পূর্ণ অন্য নিয়মে পুজো হয়। শ্রীরামকৃষ্ণের দেখানো পথেই মা ভবতারিণীকে ঘি-ভাত, পাঁচ রকমের ভাজা, পাঁচ রকমের তরকারি, পাঁচ রকমের মাছ, চাটনি ও মিষ্টি নিবেদন করা হয়।
আরও পড়ুন: নেই ডাকাত, তবুও নামেই বেঁচে রোমাঞ্চ! মাজদিয়ায় দেড় শতকের ঐতিহ্য মেনে আজও পুজো পান ‘ডাকাতে কালী’
কালীঘাটে আবার দুপুরের অন্নভোগে পোলাও, ঘি-ভাতের সঙ্গে পোনা ও চিংড়ি মাছের পাশাপাশি প্রথম বলির পাঁঠার মাংস দেওয়া হয় মাকে। রাতে অবশ্য নিরামিষ শীতল ভোগ হিসেবে লুচি, খিচুড়ি ও রকমারি মিষ্টির ব্যবস্থা থাকে। এছাড়াও নৈহাটির বিখ্যাত ‘বড়মা’-র ভোগেও থাকে খিচুড়ি, পোলাও, লুচি থেকে শুরু করে স্বরপুরিয়া ও লাড্ডুর মতো হরেক রকমের মিষ্টি। এমনকি পুজো শেষে ভক্তদের মধ্যে সেই প্রসাদ বিতরণের জন্য বিশেষ কাউন্টারের ব্যবস্থাও করা হয়। সব মিলিয়ে, এই মহানিশার রাতে দেবীর আরাধনায় ভক্তি ও আভিজাত্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায় বাংলাজুড়ে।
Leave a comment