25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home কলকাতা মমতার ধর্নামঞ্চে খাঁ খাঁ করছে নেতাদের চেয়ার! পাশে নেই ৪১ জন সাংসদ ও ৭৮ বিধায়কের সিংহভাগ, ভাঙনের ইঙ্গিত?
কলকাতা

মমতার ধর্নামঞ্চে খাঁ খাঁ করছে নেতাদের চেয়ার! পাশে নেই ৪১ জন সাংসদ ও ৭৮ বিধায়কের সিংহভাগ, ভাঙনের ইঙ্গিত?

Share
মমতার ধর্নামঞ্চে খাঁ খাঁ করছে নেতাদের চেয়ার! পাশে নেই ৪১ জন সাংসদ ও ৭৮ বিধায়কের সিংহভাগ, ভাঙনের ইঙ্গিত?
ছবি সংগৃহীত
Share

কলকাতা: রাজনৈতিক জীবনে বারবার রাজপথকে প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনো বিরোধী নেত্রী হিসেবে, আবার কখনো বা মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিয়ে ধর্নায় বসেছেন তিনি। কখনো সিএএ-র বিরোধিতা, তো কখনো ‘বাঙালি অস্মিতা’ রক্ষার লড়াই— প্রতিবারই নেত্রীর একটা ডাকে তড়িঘড়ি ছুটে আসতেন দলের সমস্ত সাংসদ, বিধায়ক ও প্রথম সারির নেতারা।

[TECHTARANGA-POST:9703]

 কিন্তু রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার মাত্র এক মাসের মাথায় মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই (Y) চ্যানেলে যখন ফের ধর্নামঞ্চে বসলেন মমতা, তখন ছবিটা দেখা গেল একেবারেই উল্টো। এককালের গমগমে সেই প্রতিবাদী মঞ্চ এবার যেন চরম উপেক্ষার সাক্ষী থাকল। খাতায়-কলমে দলের হাতে এখনও ৪১ জন সাংসদ এবং ৭৮ জন বিধায়ক (দুজনকে সদ্য বহিষ্কার করার পর) থাকলেও, মঙ্গলবারের হাইপ্রোফাইল ধর্নামঞ্চে মমতার পাশে এসে দাঁড়ালেন মেরেকেটে মাত্র ৫ জন সাংসদ এবং গুটিকয়েক বিধায়ক। ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই দলের এই চেনা ছবি উধাও হয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র গুঞ্জন— তবে কি জোড়াফুল শিবিরের ভাঙন এবার অনিবার্য?

[TECHTARANGA-POST:9692]

মঙ্গলবার দুপুর ২টোয় কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যখন ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন তাঁর সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন কেবল সাংসদ দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা মঞ্চে ওঠার পর নিচুতলার কর্মীদের কিছু ভিড় নজরে এলেও, আগের সেই ঐতিহাসিক জনস্রোত বা নেতাদের করজোড়ে দাঁড়িয়ে থাকার ছবির সঙ্গে এর কোনো মিলই ছিল না। বিশৃঙ্খল ভিড়ের মাঝে মাথা উঁচু করে সবাইকে শান্ত করতে দেখা যায় খোদ দলনেত্রীকে। অথচ কয়েক মাস আগেও যখন সিবিআই বা ইডির বিরোধিতায় তৃণমূল প্রতিবাদ মঞ্চ তৈরি করেছিল, তখন গোটা রাজ্য মন্ত্রিসভা ও বিধায়কদের সেখানে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। অথচ আজ ক্ষমতা চলে যেতেই সিংহভাগ জনপ্রতিনিধি নেত্রীর কর্মসূচি থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেন, যা তৃণমূলের অন্দরে এক গভীর ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

[TECHTARANGA-POST:9671]

মঙ্গলবারের এই ধর্নামঞ্চে শেষ পর্যন্ত হাতেগোনা যে কয়েকজন বিধায়ককে দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে ছিলেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, ফিরহাদ ববি হাকিম, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোক দেব এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে ৪১ জন সাংসদের মধ্যে হাজিরা খতিয়ান ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। কেবল ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম, দোলা সেন, মালা রায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই এদিন মমতার পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে। 

[TECHTARANGA-POST:9628]

হেভিওয়েটদের এই বিরাট শূন্যতার মাঝে মঞ্চের আলো আলো করে বসেছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও তন্ময় ঘোষের মতো সদ্য নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরা। এছাড়া কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর ও প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈশ্বনর চট্টোপাধ্যায়, কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং স্বপন সমাদ্দারের মতো কিছু পরিচিত মুখ হাজির ছিলেন। নতুন জমানায় দলের এই চরম দুর্দিনেও যেভাবে সিংহভাগ সাংসদ-বিধায়ক দলনেত্রীর পাশে আসতে অনীহা দেখালেন, তা আগামী দিনে মমতার রাজনৈতিক অস্তিত্বকে আরও বড় সংকটের মুখে ঠেলে দিল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *