মোদির সফরের পরপরই ইরানে হামলা কেন? বিশ্বব্যাপী নানা জল্পনার মধ্যেই মুখ খুললেন ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত
নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দু’দিনের হাই-প্রোফাইল ইজরায়েল সফর শেষ করে দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের উপর আকাশপথে হামলা চালিয়েছে তেল আভিভ। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঠিক পরই কেন এই সামরিক পদক্ষেপ? এই প্রশ্ন ঘিরে যখন আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ভারতের সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি স্পষ্ট করলেন ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত রুবেন আজার।[TECHTARANGA-POST:6987]ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূতের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সঙ্গে এই হামলার কোনও সরাসরি যোগসূত্র নেই। এটি মূলত গত ১ অক্টোবর ইরানের পক্ষ থেকে ইজরায়েলে চালানো ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার পাল্টা জবাব। আজার স্পষ্ট করে জানান, ইজরায়েল দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য্য দেখিয়েছে। কিন্তু, তাদের নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই পদক্ষেপ করা অনিবার্য ছিল। তিনি আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য। আর, ইরানের উপর এই হামলা ছিল আমাদের আত্মরক্ষার অধিকার।"[TECHTARANGA-POST:6986]সাক্ষাৎকারে উঠে আসে গত ১ অক্টোবরের সেই ভয়াবহ স্মৃতি, যখন ইরান ইজরায়েলের দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল! ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূতের মতে, সেই সময় থেকেই ইজরায়েল উপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়টি কাকতালীয় হলেও, ইজরায়েল তার সামরিক কৌশলে কোনও পরিবর্তন আনেনি।[TECHTARANGA-POST:6985]ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূতের এই ব্যাখ্যার পরেও ভারতের বিরোধী দলগুলি বিশেষ করে কংগ্রেস প্রশ্ন তুলছে। তাদের দাবি, ১৯৯৪ সালে রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর ইস্যুতে যখন ভারতের উপর চাপ আসছিল, তখন ইরান ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এখন ইজরায়েলের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে গিয়ে ভারত সেই পুরনো মিত্রকে হারাচ্ছে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।তবে ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, তারা ভারতের জাতীয় স্বার্থ ও আবেগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু, ইরানের ক্রমাগত উস্কানির মুখে ইজরায়েল হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থির পরিস্থিতি এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে নয়াদিল্লি এখন কী অবস্থান নেয়, সেটাই দেখার।