কলকাতা: সমস্ত আইনি জট ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়ে অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ অনুমতি নিয়ে মার্কিন মুলুকে গিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকার বিশ্বখ্যাত জন্স হপকিন্স হাসপাতালে তাঁর চোখের চিকিৎসা চলছে। সম্প্রতি সেখান থেকেই ইনস্টাগ্রামের স্টোরিতে নিজের চোখের পরিস্থিতির এক ঝলক ছবি পোস্ট করেন তিনি। তাঁর সেই সোশ্যাল মিডিয়া বার্তা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, ছবি এবং বার্তার আড়ালে তাঁকে বিদেশে যেতে বাধা দেওয়া বিরোধীদের কড়া ও প্রচ্ছন্ন জবাবই দিয়েছেন অভিষেক।ছবি শেয়ার করে তৃণমূল সাংসদ লেখেন, এই ক্ষতচিহ্নই স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছে তিনি কিসের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। একইসঙ্গে ইঙ্গিতবাহী বার্তায় তিনি যোগ করেন, পরিস্থিতি যে এখনও স্বাভাবিক হওয়ার ধারেকাছে নেই, তা তাঁর এই চোখই বুঝিয়ে দিচ্ছে। ক্যামাক স্ট্রিট সূত্রের খবর, গত বছরের নভেম্বর থেকেই তাঁর চোখের সমস্যা বেশ জটিল আকার ধারণ করে। এমনকি একটানা পড়তে গেলে একটি প্যারা থেকে চোখ লাফিয়ে অন্য প্যারায় চলে যাওয়ার মতো সমস্যায় পড়ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালের ১৯ অক্টোবর মুর্শিদাবাদ থেকে ফেরার পথে সিঙ্গুরের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় অভিষেকের চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। এর পর থেকে আমেরিকা ও দেশে মিলিয়ে দু’চোখ মিলিয়ে অন্তত ১০ বার অস্ত্রোপচার হয়েছে তাঁর।অভিষেকের এই বিদেশযাত্রা একেবারেই সহজ ছিল না। রাজ্য সরকারের আইনজীবী কলকাতা হাই কোর্টে সওয়াল করে অভিষেকের বিরুদ্ধে চলা একাধিক মামলার কথা তুলে ধরে তাঁর বিদেশে যাওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। উচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল এসএসকেএমের মেডিক্যাল বোর্ডের মতামত নেওয়ার, যা প্রত্যাখান করায় হাই কোর্টে তাঁর আর্জি খারিজ হয়ে যায়। এরপর সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানায়, কেবল মামলা ঝুলছে বলে কারও পছন্দের চিকিৎসা নেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। শীর্ষ আদালতের বেঁধে দেওয়া তিন সপ্তাহের মেয়াদের ভিত্তিতে আগামী ২২-২৩ তারিখের মধ্যে তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা।অন্যদিতে চিকিৎসাকালীন অবস্থাতেও সমালোচনা থামায়নি বিরোধী শিবির। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন, নিউ জার্সিতে বিলাসবহুল ভিলা ভাড়া করে অবস্থান করছেন অভিষেক। চিকিৎসা ছেড়ে ভিলা ভাড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তোলা হয় প্রশ্ন। সমস্ত বিতর্কের মাঝেই আমেরিকা থেকে নিজের যন্ত্রণার ছবি প্রকাশ্যে এনে জবাব দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।[TECHTARANGA-POST:12663]