নবান্নে ‘ক্লিনআপ’ অপারেশন? এক কলমের খোঁচায় চাকরি গেল কয়েকশো আমলার!
কলকাতা: নবান্নে বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক মিটতেই বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল জমানায় অবসরের পর ‘পুনর্বাসন’ পাওয়া ষাটোর্ধ্ব আমলাদের এবার বিদায় জানাল নতুন সরকার। সোমবার এক সরকারি নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি কমিটি, বোর্ড এবং ডিরেক্টর পদে থাকা ৬০ বছরের বেশি বয়সী কোনও আধিকারিককেই আর দায়িত্বে রাখা হচ্ছে না।[TECHTARANGA-POST:8992]অভিযোগ ছিল, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে পছন্দের আধিকারিকদের অবসরের পরেও বিভিন্ন লাভজনক পদে বসিয়ে রাখা হত। মোটা টাকা বেতন, সরকারি গাড়ি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতেন এই আমলারা। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা প্রথম বৈঠকেই এই ‘পুনর্বাসন’ প্রথা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে কয়েকশো আধিকারিককে আজ থেকেই পদমুক্ত করা হল। নবান্ন সূত্রে খবর, এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি কোষাগারের একটি বড় অঙ্কের টাকা সাশ্রয় হবে।[TECHTARANGA-POST:8981]সোমবার সকালে নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল ও নিশীথ প্রামাণিকের মতো হেভিওয়েট মন্ত্রীরা। আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরেই এই নির্দেশিকা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং নতুনদের সুযোগ করে দিতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:8964]বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রথম বৈঠকে যে কাগজগুলি প্রস্তুত ছিল, সেগুলি নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।” তিনি আরও জানান, সরকার গঠনের পর খুব বেশি সময় পাওয়া যায়নি বলেই প্রথম বৈঠকে সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।[TECHTARANGA-POST:8966]তবে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী সোমবার দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, পে কমিশন এবং মহার্ঘ্য ভাতা (DA)-র মতো আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। আপাতত ষাটোর্ধ্ব আমলাদের সরিয়ে প্রশাসনকে গতিশীল করাই নবান্নের প্রধান লক্ষ্য।