"আপোসের রাজনীতি করিনি", টিকিট না পেয়েই কি হঠাৎ বাবার আদর্শ মনে পড়ল বাদুড়িয়ার বিধায়কের?
নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তর ২৪ পরগনা: ভোটের মুখে বড়সড় ধাক্কা খেল উত্তর ২৪ পরগনার শাসক শিবির। সন্দেশখালিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা সভার কয়েক ঘণ্টা আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলেন বাদুড়িয়ার বিদায়ী বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম। টিকিট না পেয়ে আগেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন, এবার সরাসরি দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ও সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করলেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:7674]রবিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এক দীর্ঘ পোস্টে আব্দুর রহিম লেখেন, “আমি সবসময় সত্য, ন্যায় এবং আদর্শের পথে চলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে যে গভীর ফারাক তৈরি হয়েছে, তা আর উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমার পিতার আদর্শ আমাকে শিখিয়েছে—অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়। সেই কারণেই আমি তৃণমূলের সকল পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।”[TECHTARANGA-POST:7672]বিদায়ী বিধায়কের নিশানায় ছিল জেলা নেতৃত্ব ও দলের টিকিট বণ্টন প্রক্রিয়া। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালে দলের কঠিন সময়ে যাঁরা লড়াই করেছিলেন, তাঁদের ব্রাত্য করে দলের বিরোধিতাকারীদের টিকিট দেওয়া হয়েছে। বাদুড়িয়ায় এবার রহিমের পরিবর্তে বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটনকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এই রদবদল ঘিরেই ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন রহিম। তিনি সাফ জানিয়েছেন, "অন্যায়ের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েও কোনো বিচার পাইনি, তাই এই সিদ্ধান্ত।"[TECHTARANGA-POST:7669]উল্লেখ্য, এবার বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার ৭টি আসনের মধ্যে ৬টিতেই বর্তমান বিধায়কদের টিকিট দেয়নি তৃণমূল। প্রার্থী তালিকায় এই বড় চমক ঘিরেই দলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। রহিমের এই পদত্যাগ সেই আগুনেই ঘি ঢালল। ইতিমধ্যে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকেও পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সন্দেশখালিতে দাঁড়িয়ে নতুন বার্তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তার আগেই বাদুড়িয়ার বিধায়কের এই ‘বিদ্রোহ’ বসিরহাটের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।