Hidden Stories (বাংলা)

"ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার চেয়ে মৃত্যু ভালো!" স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি

আরামবাগ: স্বাধীন দেশে থেকেও কি তাঁরা আজ পরাধীন? ভোটারতালিকায় নাম নেই, তাই কি শেষ জীবন কাটাতে হবে ডিটেনশন ক্যাম্পে? এই চরম আতঙ্ক আর অভিমানে এবার সরাসরি রাষ্ট্রপতির কাছে ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’র আবেদন জানালেন হুগলি জেলার আরামবাগের ছয় বাসিন্দা। সোমবার দুপুরে নিজেদের শরীরে যাবতীয় পরিচয়পত্র ও নথি সেঁটে আরামবাগ মহকুমাশাসকের দফতরে হাজির হন তাঁরা। তাঁদের এই নজিরবিহীন প্রতিবাদে নজর কাড়ছে গোটা বাংলার।[TECHTARANGA-POST:7968]আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাইবুন্নেসা বেগম। তিনি টানা ২০ বছর গোঘাট ভগবতী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। সরকারি চাকরি করেছেন সব মিলিয়ে ৩৪ বছর। তাঁর স্বামী আরামবাগ গার্লস কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ। তাইবুন্নেসা বেগমের প্রশ্ন, “যিনি সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন, যাঁর পেনশনের কাগজ থেকে পাসপোর্ট - সব রয়েছে, তিনি কী করে বিদেশি হন? কেন ভোটারতালিকা থেকে নাম বাদ গেল?”[TECHTARANGA-POST:7967]প্রশাসন সূত্রে খবর, আবেদনকারীরা সকলেই আরামবাগ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ওই একটি ওয়ার্ড থেকেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় ২০৬ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সোমবার মহকুমাশাসকের দফতরের বাইরে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবেদনকারীরা। তাঁদের দাবি, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এই চরম অপমান ও হয়রানি তাঁরা সহ্য করতে পারছেন না। ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার চেয়ে সসম্মানে মৃত্যুবরণ করতেই তাঁরা রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:7961]এই ঘটনা কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর স্বপন নন্দী আবেদনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে মহকুমাশাসকের দফতরে যান। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষকে ভিটেমাটি ছাড়া করার ষড়যন্ত্র করছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বের পালটা যুক্তি, নির্বাচনের মুখে সাধারণ মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করছে তৃণমূল।[TECHTARANGA-POST:7949]বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও কেন এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ল, তারই উত্তর খুঁজছে সাধারণ মানুষ। তবে, আরামবাগের এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, ভোটারতালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার