সাংবিধানিক পদে বসে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আক্রমণ নয়, কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
নয়াদিল্লি: দেশের ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় বড়সড় পর্যবেক্ষণ করল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও ব্যক্তি - তিনি সাধারণ নাগরিক হোন বা উচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন কোনও ব্যক্তিত্ব - ধর্ম, বর্ণ, ভাষা কিংবা অঞ্চলের ভিত্তিতে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আক্রমণ বা অপমান করতে পারেন না। শীর্ষ আদালতের মতে, এই ধরনের আচরণ সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।[TECHTARANGA-POST:6772]চলচ্চিত্র নির্মাতা নীরজ পাণ্ডের একটি ছবির নামকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ ছিল, ছবির নামটি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য অপমানজনক। মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে গড়ালে নির্মাতা পক্ষ ছবির নাম পরিবর্তনে রাজি হয়, যার ফলে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মামলাটির নিষ্পত্তি হয়। বুধবার এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের সময় বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইঞা এবং বিচারপতি বি ভি নাগারত্নের বেঞ্চ এই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলি করে।[TECHTARANGA-POST:6770]পৃথক একটি রায়ে বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইঞা লেখেন, “ধর্ম, জাতি, ভাষা বা বাসস্থানের ভিত্তিতে কোনও সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ঘৃণা ছড়ানো বা আক্রমণ করা সংবিধানবিরোধী। বিশেষ করে যাঁরা উঁচু সাংবিধানিক পদে রয়েছেন, তাঁদের দায়িত্ব অনেক বেশি। কারণ তাঁরা সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন।” আদালত আরও জানায় যে, শুধু বক্তৃতাই নয়, কোনও মিম, কার্টুন বা ভিজ্যুয়াল আর্টের মাধ্যমেও কোনও সম্প্রদায়কে হেয় করা যাবে না।বিচারপতি ভুঁইঞা তাঁর রায়ে দেশবাসীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ এবং ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে জানান, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সহ-নাগরিককে সম্মান করাই হল আসল ‘সাংবিধানিক ধর্ম’। নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখাই সংবিধানের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত।[TECHTARANGA-POST:6768]সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের মুখে বিশেষ কোনও সম্প্রদায় বা ভাষাভাষী মানুষের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য শোনা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া বার্তা অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এটি কেবল সতর্কবার্তা নয়, বরং সাংবিধানিক পদের গাম্ভীর্য রক্ষার একটি স্পষ্ট নির্দেশিকা।