প্রেমে কাঁটা বয়সের ফারাক, আন্দুলের সিনেমা হলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা যুগলের!
আন্দুল: প্রেক্ষাগৃহের অন্ধকারেই কি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন দুজনে? আন্দুলের একটি নামী সিনেমা হলে দুপুর ২টোর শো শেষে যখন আলো জ্বলে উঠল, তখনই সামনে এল এক হাড়হিম করা দৃশ্য। সিনেমা হলের এক কোণে আড়ালে থাকা কেবিনের সিটে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেল এক যুগলকে। তাঁদের ঠোঁটের কোণে তখনও বিষের অষ্পট আভা! শেষ পাওয়া খর অনুসারে, হাওড়ার এক বেসরকারি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ডোমজুড়ের ওই যুগল।অন্যান্য দিনের মতোই বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্দুলের ওই হলে শো চলছিল। সিনেমা শেষ হওয়ার পর সাফাইকর্মী হল পরিষ্কার করতে ঢুকে দেখেন, কেবিনের সিটে হেলান দিয়ে পড়ে আছেন দুজনে। বারবার ডেকেও সাড়া না মেলায় তড়িঘড়ি হল ম্যানেজার ও পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, বিষক্রিয়ার ফলেই তাঁদের এই অবস্থা এবং দুজনেরই শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অসুস্থ ওই যুবক-যুবতী ডোমজুড় থানা এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সমাজ ও পরিবার। প্রেমিকের তুলনায় প্রেমিকার বয়স বেশ কিছুটা বেশি। আর, এই ‘বয়সের ফারাক’-কেই হাতিয়ার করে তাঁদের বিয়েতে তীব্র আপত্তি জানায় পরিবার। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, "পরিবারের অমিল এবং মানসিক অবসাদের কারণেই তাঁরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে প্রাথমিক ধারণা।"হলের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, গোপনীয়তা বজায় রাখতেই যুগল কেবিনের টিকিট কেটেছিলেন। তাঁদের ব্যাগে বিষের শিশি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে হলের ভেতরে তাঁদের গতিবিধি।ঘটনার খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে দুই পরিবার। প্রেমিকার বাবা আক্ষেপের সুরে বলেন, "বয়সের পার্থক্যের জন্যই আমরা পিছিয়ে এসেছিলাম। মেয়েটা এমন কিছু করবে জানলে হয়তো আমরা সম্মতি দিয়ে দিতাম।" অন্যদিকে, ডোমজুড় এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুশ্চিন্তা ছায়া নেমে এসেছে।সমাজ ও পরিবারের গোঁড়ামি কি তবে এভাবেই কেড়ে নেবে নবীন প্রাণ? আন্দুলের এই ‘ডার্ক ফ্যান্টাসি’ ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আমাদের সামাজিক কুসংস্কারের করুণ পরিণতি।