কলকাতা: ছাব্বিশের মহারণে বাংলায় সরকার বদল হতেই এবার বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দলনেতার আসন ও নাম বাছাই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো নজিরবিহীন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রবীণ তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম জানিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেটারহেডে পাঠানো একটি চিঠিকে সরাসরি খারিজ করে দিল বিধানসভার সচিবালয়। সচিবালয় সূত্রে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল বা দলের সাধারণ সম্পাদকের প্যাডে লিখে এভাবে সরাসরি বিরোধী দলনেতার নাম ঠিক করে পাঠানো সম্পূর্ণ নিয়ম-বহির্ভূত এবং বেআইনি। [TECHTARANGA-POST:9248]নিয়ম অনুযায়ী, তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা ৮০ জন বিধায়ক নিজেরা বৈঠক করে ভোটাভুটির মাধ্যমে তাঁদের দলনেতা তথা বিরোধী দলনেতা বাছাই করবেন, যা কোনো দল বা দলের হাইকমান্ড একা চাপিয়ে দিতে পারে না। এই মর্মে বিধানসভা সচিবালয়ের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, এই নিয়মবিরুদ্ধ উপায়ে মনোনীত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে কোনোভাবেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব নয়। এই চরম টানাপোড়েন ও আইনি জট তৈরি হতেই সোমবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার নির্দিষ্ট ঘরটি খোলা হয়নি, সেটি দিনভর তালাবন্ধই ছিল।[TECHTARANGA-POST:9237] ফলে তড়িঘড়ি সাধারণ বিরোধী বিধায়কদের জন্য বরাদ্দ একটি ঘরে গিয়েই বসেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর সাথে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ ও চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ শোভনদেববাবু স্বয়ং বিধানসভার রুল বুক বা নিয়মাবলী খতিয়ে দেখে দাবি করেন, সংবিধানে বা নিয়মে এমন কোনো বাধ্যবাধকতার কথা স্পষ্ট লেখা নেই।[TECHTARANGA-POST:9212] এই নিয়মের আসল সত্যতা এবং আইনি ভিত্তি জানতে চেয়ে এদিনই তিনি বিধানসভায় একটি আরটিআই (RTI) চিঠিও জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি সম্পূর্ণ বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন তিনি। নতুন সরকারের জমানায় প্রথম বিধানসভা অধিবেশন শুরুর আগেই বিরোধী দলনেতার পদ ঘিরে এই মেগা নাটকীয়তা এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার