Hidden Stories (বাংলা)

বেলডাঙা হিংসায় এনআইএ তদন্তে সুপ্রিম সিলমোহর, আইনি লড়াইয়ে ধাক্কা রাজ্যের

কলকাতা ও নয়াদিল্লি: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সাম্প্রদায়িক অশান্তির ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-র তদন্তে কোনও হস্তক্ষেপ করলা না দেশের শীর্ষ আদালত। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত এনআইএ-ই এই ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাবে। রাজ্যের উচ্চ আদালত অর্থাৎ কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু, সেখানে কোনও স্বস্তি মিলল না রাজ্যের। বরং, তদন্তের নথি হস্তান্তর না করা নিয়ে ফের একবার রাজ্য প্রশাসনের গাফিলতি ও সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে বুধবার এই মামলার শুনানি ছিল। সেখানে রাজ্যের আর্জি নাকচ করে দিয়ে শীর্ষ আদালত জানায়, এনআইএ ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। তাই, এখন এতে হস্তক্ষেপ করা হবে না। তবে, এনআইএ যে কঠোর ইউএপিএ ধারা যুক্ত করেছে, তা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেটি নির্ণয়ের ভার কলকাতা হাইকোর্টের উপরই ছেড়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো উপাদান না থাকলে ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা যায় না। এনআইএ-কে আপাতত হাইকোর্টে মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট দিয়ে জানাতে হবে, এই ধারা প্রয়োগের মতো প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ তাদের কাছে আছে কিনা।প্রসঙ্গত, এই মামলার শুনানিতে রাজ্যের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। যা প্রশাসনের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। যেমন - এনআইএ-র আইনজীবীর অভিযোগ, হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ এখনও পর্যন্ত তদন্তের যাবতীয় নথি এনআইএ-র হাতে তুলে দেয়নি। একটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে রাজ্যের এই ‘অসহযোগিতা’ আইনি প্রক্রিয়ায় বড় অন্তরায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।কেন্দ্র ও এনআইএ-র দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বেলডাঙায় দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মতো ঘটনা ঘটেছে। রাজ্য পুলিশ ৩৩ জনকে গ্রেফতারের দাবি করলেও, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তের স্পর্শকাতরতার বিষয়টিকে রাজ্য যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিচার করছে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জনস্বার্থ মামলা এবং পরবর্তীকালে হাইকোর্টের এনআইএ তদন্তের নির্দেশ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর আদালতের আস্থার অভাবকেই স্পষ্ট করেছিল। সুপ্রিম কোর্টে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করতে যাওয়া আদতে রাজ্যের পরাজয় হিসাবেই দেখা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন বারবার কেন্দ্রীয় তদন্ত আটকাতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়, তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সমালোচকদের মতে, অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার চেয়ে তদন্তের এক্তিয়ার নিয়ে লড়াইয়ে রাজ্য প্রশাসনের অধিক মনোযোগ কার্যত প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার সুযোগ করে দিতে পারে।"প্রত্যেক আবেগঘন বা উত্তেজিত ঘটনার সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার হুমকি জুড়ে দেওয়া যায় না" — বিচারপতি বাগচীর এই মন্তব্য ইউএপিএ ধারার অপব্যবহার রোধে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সামগ্রিকভাবে বেলডাঙার ঘটনায় রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতা সুপ্রিম স্থগিতাদেশ না পাওয়াতেই ফের প্রমাণিত হল।এখন সকলের নজর কলকাতা হাইকোর্টের দিকে। এনআইএ-র রিপোর্টে যদি উগ্রপন্থী বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনও সূত্র পাওয়া যায়, তাহলে রাজ্য সরকারের অবস্থান আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠবে।

বেলডাঙা হিংসায় এনআইএ তদন্তে সুপ্রিম সিলমোহর, আইনি লড়াইয়ে ধাক্কা রাজ্যের

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার