কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ব্রিগেডের হাইভোল্টেজ মঞ্চে ফের শিরোনামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘জিহ্বা বিড়ম্বনা’। শনিবারের জনসভায় বাংলার মণীষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে পরমপূজ্য লোকমাতা রানি রাসমণিকে প্রধানমন্ত্রী সম্বোধন করলেন ‘রসমণি’ বলে! আর এই উচ্চারণ বিভ্রাট ঘিরেই দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে বাঙালির ভাবাবেগে চরম আঘাত বলে দেগে দিয়ে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস।সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়ে তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, প্রধানমন্ত্রী কি সচেতনভাবেই বারবার বাংলার মণীষীদের অপমান করেন? দলের পক্ষ থেকে এক পোস্টে জানানো হয়, “পরমপূজ্য লোকমাতা রানি রাসমণিকে কোন সাহসে ‘রসমণি’ বললেন নরেন্দ্র মোদি? বাংলার মানুষের ভাবাবেগকে বারবার আক্রমণ করে কি বাংলা দখলের স্বপ্ন দেখছে বিজেপি? বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধি!”[TECHTARANGA-POST:7294]বাঙালি মণীষীদের নাম নিয়ে মোদীর এই সম্বোধন-বিভ্রাট অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে সংসদে দাঁড়িয়ে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথিতে তাঁকে ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী সেই সময় লিখেছিলেন, “প্রধানমন্ত্রী বাংলার মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতি তাঁর সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতা প্রদর্শন করছেন। শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের নামের সাথে ‘স্বামী’ উপসর্গ যোগ করা অভূতপূর্ব ও অনুপযুক্ত।”আর, এবার ব্রিগেডের মতো বড় মঞ্চে রানি রাসমণির নাম ভুল উচ্চারণ করায় বিজেপি নেতৃত্বকে যথেষ্ট রক্ষণাত্মক অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল একে হাতিয়ার করে ‘বহিরাগত’ বনাম ‘বাঙালিয়ানা’র বিতর্ককে আরও উস্কে দিতে চাইছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের ভুল শাসক শিবিরের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিল।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার