মীরা দেবীর নিরাপত্তা ফেরাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! পাম অ্যাভিনিউতে ফিরছে পুলিশি পাহারা
কলকাতা: বাংলায় ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এবার এক অনন্য ও নজিরবিহীন রাজনৈতিক সৌজন্যের সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্যবাসী। আদর্শগত ফারাককে দূরে সরিয়ে রেখে রাজ্যের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সহধর্মিণী মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরানোর বড়সড় সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলাই বাহুল্য, বিগত তৃণমূল সরকারের জমানায় বুদ্ধবাবুর প্রয়াণের পর পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাট থেকে যেভাবে সমস্ত নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল, নতুন বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপ তার ঠিক বিপরীত। শুভেন্দু অধিকারীর এই মানবিক ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্তকে বাংলার রাজনীতির আঙিনায় এক বিরল সৌজন্যের নজির হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।২০২৪ সালের ৮ আগস্ট চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পাম অ্যাভিনিউয়ের সেই ঐতিহাসিক ফ্ল্যাট। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিআইএম (CPIM) নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। রেখে গিয়েছিলেন স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য এবং সন্তান সুচেতনকে। বুদ্ধবাবুর প্রয়াণের পর তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অত্যন্ত আকস্মিক ভাবেই ওই ছোট্ট ফ্ল্যাটের বাইরে থাকা সমস্ত পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেয়। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে কার্যত একপ্রকার অরক্ষিত অবস্থাতেই ওই বাসভবনে দিন কাটাচ্ছিলেন বর্ষীয়সী মীরা দেবী। তবে গত মে মাসে রাজ্যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। আর মসনদে বসেই ব্যস্ততম কর্মসূচির মাঝ থেকেও বর্ষীয়সী মীরা দেবীর নিরাপত্তার অভাব দূর করতে তৎপর হলেন তিনি। ৫৯এ, পাম অ্যাভিনিউয়ের সেই পরিচিত ঠিকানায় আবারও আগের মতো পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।বর্তমানে মীরা দেবী একাই অত্যন্ত অনাড়ম্বর ও সাধারণ ভাবে দিন কাটাচ্ছেন ওই ফ্ল্যাটে। একসময় স্বয়ং জ্যোতি বসুও বুদ্ধবাবুকে এই ছোট বাসস্থানটি বদলে বড় সরকারি আবাসন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য আজীবন সাধারণ মানুষের মতোই এই ফ্ল্যাটেই থেকে গিয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পরও মীরা দেবী সেই সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছেন। উল্লেখ্য, রাজ্যে পরিবর্তনের পর নতুন গেরুয়া সরকারকে স্বাগত জানিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিলেন বুদ্ধ-জায়া। মতাদর্শের অমিল থাকলেও তিনি নতুন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, ২০১১ সালের আগে বাংলায় যেভাবে সিন্ডিকেট রাজ মুক্ত পরিবেশ ছিল, সেই সুদিন আবারও ফিরে আসবে। ভোটের আগে গেরুয়া শিবির সাধারণ মানুষকে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে বলেও বিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন তিনি। আর এবার সেই বুদ্ধ-জায়ার প্রতিই রাজকীয় সম্মান ও সৌজন্য প্রদর্শন করে বিগত সরকারের খামতি পূরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।[TECHTARANGA-POST:10963]হিডেন স্টোরিজ নিউজ