জাতিগত শংসাপত্রে বড় কেলেঙ্কারি! ভেরিফিকেশন শুরু হতেই বাতিল ৭০০ সার্টিফিকেট
পশ্চিমবঙ্গে জাতিগত শংসাপত্র (কাস্ট সার্টিফিকেট) নিয়ে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ সামনে এল। রাজ্যজুড়ে কাস্ট সার্টিফিকেটের তথ্য-যাচাই বা ভেরিফিকেশন শুরু হতেই উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও গ্রন্থাগার দপ্তরের দাবি, গত কয়েক বছরে নিয়ম না মেনেই বিপুল সংখ্যক শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৭০০টি সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা লক্ষাধিক ছাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।[TECHTARANGA-POST:10641]মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বিশেষ করে 'দুয়ারে সরকার' কর্মসূচির মাধ্যমে ইস্যু হওয়া বহু জাতিগত শংসাপত্রে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রভাব খাটিয়ে বহু অযোগ্য ব্যক্তি তফসিলি জাতি (এসসি), তফসিলি উপজাতি (এসটি) এবং ওবিসি শংসাপত্র সংগ্রহ করেছেন। এমনকি 'বন্দ্যোপাধ্যায়' পদবিধারী এক ব্যক্তি এসসি সার্টিফিকেট নিয়ে সরকারি চাকরি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “গত ১৫ বছর বা তারও আগে যত ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে, সেগুলি দ্রুত বাতিল করার জন্য ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৭০০টি সার্টিফিকেট বাতিল হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাটা লক্ষাধিক হতে পারে।” তাঁর আরও দাবি, অনেকেই শাস্তির আশঙ্কায় চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:10640]দপ্তর সূত্রে খবর, ২০১১ সাল থেকে ইস্যু হওয়া প্রায় ১.৬৯ কোটি জাতিগত শংসাপত্র নতুন করে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১ কোটি তফসিলি জাতি (এসসি), ২১ লক্ষ তফসিলি উপজাতি (এসটি) এবং প্রায় ৪৮ লক্ষ ওবিসি শংসাপত্র। ইতিমধ্যেই ১৪ মে সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের এই মর্মে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, অতীতে দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বহু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই শংসাপত্র অনুমোদন করা হয়েছিল। সেই কারণেই এখন প্রতিটি নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আরও বহু শংসাপত্র বাতিল হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত।