মার্চেই অ্যাকাউন্টে ঢুকছে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি! নবান্নে জোরকদমে শুরু হিসেবনিকেশ
কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা (DA) পেতে চলেছেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পর চলতি মার্চ মাসেই বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি মিটিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে নবান্নে। অর্থ দফতর সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কর্মীদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দিতে দিনরাত এক করে হিসাব কষছেন আধিকারিকরা।[TECHTARANGA-POST:7471]নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চার বছরের বকেয়া মেটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই চার বছরের মোট বকেয়ার অর্ধেক টাকা দেওয়া হবে চলতি মার্চ মাসে। বাকি অর্ধেক মিলবে পুজোর আগে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাসে।[TECHTARANGA-POST:7472]এক নজরে সম্ভাব্য হিসাব: যাঁদের বেসিক বেতন ৭,০০০ টাকা, তাঁদের চার বছরের মোট বকেয়া প্রায় ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪০০ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৭৪,৭০০ টাকা মার্চেই পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের হিসাব ধরলে, ১৫,০০০ টাকা বেসিকের ক্ষেত্রে মোট বকেয়া দাঁড়াতে পারে ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭২০ টাকা। আবার, ১০,০০০ টাকা বেসিকের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক প্রায় ৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ১৪০ টাকা।[TECHTARANGA-POST:7468]সূত্রের দাবি, ডিএ-র হিসাব নির্ভুল রাখতে এবং দ্রুত অর্থ প্রদান নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার ‘ইন্টিগ্রেটেড ফিনান্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা IFMS-এর সাহায্য নিচ্ছে। যেহেতু ২০১৬ সাল থেকে এই ডিজিট্য়াল ব্যবস্থাটি রাজ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়েছে, তাই ওই সময়ের পরবর্তী তথ্য সংগ্রহ করা অনেক সহজ। এই ডিজিট্যাল ডেটাবেসের ভিত্তিতেই দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি করে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7467]অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা সরাসরি জমা পড়ে যাবে। সাধারণ ট্রেজারি ও ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মাধ্যমেই এই লেনদেন সম্পন্ন হবে। অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, "বাকি বকেয়া ডিএ পরবর্তী পর্যায়ে ধাপে ধাপে মেটানো হবে। সেই বিষয়ে পরবর্তীকালে পৃথক নির্দেশিকা জারি করা হবে"।[TECHTARANGA-POST:7459]নির্বাচন কমিশন ভোট ঘোষণার প্রাক্কালে সরকারের এই পদক্ষেপে স্বভাবতই খুশির হাওয়া সরকারি কর্মচারী মহলে। এখন শুধু মার্চ মাসের শেষে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার অপেক্ষা!