আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্রের আতঙ্ক! মধ্যপ্রাচ্যে উড়ান বন্ধের দাবিতে কেন্দ্রের দ্বারস্থ ভারতীয় পাইলটরা
নয়াদিল্লি: ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যখন তছনছ তেহরান থেকে বাহরিন, ঠিক সেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিমান চালাতে নারাজ ভারতীয় পাইলটরা। পশ্চিম এশিয়ায় উড়ান পরিষেবা অবিলম্বে বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে এবার দেশের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-র দ্বারস্থ হল ‘এয়ারলাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’।[TECHTARANGA-POST:7649]ডিজিসিএ-কে লেখা চিঠিতে পাইলটদের অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্ট জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার উপর দিয়ে যাত্রীবাহী বিমান চালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেকোনও মুহূর্তে যাত্রীবাহী বিমানের উপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। অ্যাসোসিয়েশনের মতে, “যুদ্ধ চলাকালীন আকাশপথ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে যাত্রী ও বিমানকর্মীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা।” গত ১৮ মার্চও এই একই বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু, তাতে কাজের কাজ হয়নি বলেই দাাবি সূত্রের।উল্লেখ্য, এর আগে ডিজিসিএ জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে বিমান চালানো হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট উড়ান সংস্থাগুলি। কিন্তু, সরকারের এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করছেন পাইলটরা। তাঁদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জীবনের ঝুঁকির বিষয়টি কোনও বেসরকারি সংস্থার উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং, সরকারের উচিত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা।[TECHTARANGA-POST:7639]গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানের একাধিক শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর উপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের যাতায়াত আকাশপথকে সাধারণ বিমানের জন্য মৃত্যুফাঁদ করে তুলেছে! ইতিমধ্য়েই মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় পাইলটরা আর কোনও প্রাণের ঝুঁকি নিতে রাজি নন।