চার্জ দেওয়ার সময় বৈদ্যুতিক গাড়িতে বিস্ফোরণ! ইন্দৌরে মৃত ৯, দিল্লির বহুতলেও বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন ৭ জন
দেশের দুই প্রান্ত থেকে আসা অগ্নিকাণ্ডের খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার সকালে মধ্যপ্রদেশের ইন্দৌরে এবং দিল্লির পালাম মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৬ জন। দুটি ক্ষেত্রেই বহুতল আবাসনের ভেতরে আটকে পড়ে সাধারণ মানুষের এই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।মধ্যপ্রদেশের ইন্দৌরের বেঙ্গলি স্কোয়্যারের কাছে গ্রেটার ব্রিজেশ্বরী কলোনির এক বহুতলে ভোরে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। জানা গিয়েছে, বহুতলের নিচে একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার সময় শর্ট সার্কিট থেকে হঠাৎই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা বহুতলে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়ে যখন বাড়িতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলি একের পর এক ফাটতে শুরু করে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে। মৃতদের মধ্যে বাড়ির মালিক ব্যবসায়ী মনোজ পুগালিয়া, তাঁর পুত্রবধূ এবং বিহার থেকে আসা তাঁদের ৬ জন আত্মীয় রয়েছেন। শোকের বিষয় হলো, আধুনিক ডিজিটাল লক লাগানো থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে লকটি আর কাজ করেনি, ফলে বাসিন্দারা চাইলেও বাইরে বের হতে পারেননি। দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিনের চেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির পালাম মেট্রো স্টেশনের কাছে শ্রীরাম চকের একটি বহুতলে বিধ্বংসী আগুন লাগে। সকাল ৭টা নাগাদ আগুন লাগার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের প্রায় ৩০টি ইঞ্জিন। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে বেগ পেতে হয় কর্মীদের। দমকল বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইন্দৌরের ঘটনার কারণ স্পষ্ট হলেও দিল্লির এই অগ্নিকাণ্ডের উৎস ঠিক কী ছিল, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুটি দুর্ঘটনাই বহুতল আবাসনে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জিং এবং অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।