Hidden Stories (বাংলা)

জাতির পিতার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি বাংলাদেশ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতির প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় ইতিহাস এবং প্রতীকগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন কেবল আবেগের বিষয় নয় এটি রাষ্ট্রীয় নীতি, আইনি কাঠামো এবং সামাজিক চেতনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোথাও এই সম্মান আইন দিয়ে নিশ্চিত করা হয়, কোথাও সামাজিক ঐকমত্যের মাধ্যমে। কিন্তু বাংলাদেশে এই প্রশ্নটি আজও বিতর্কিত, বিভাজিত এবং অনেক ক্ষেত্রে অবহেলিত।[TECHTARANGA-POST:7430]১৯৫১ সালের প্রণীত  তুরস্কের রাষ্ট্রীয় আইনের ধারা ৫৮১৬ অনুসারে তুরস্কের জাতির পিতা কামাল আতাতুর্কের অবমাননা করা একটা রাষ্ট্রীয় অপরাধ। কামাল আতাতুর্ককে অপমান করে কেউ কিছু বললে তার ১ থেকে ৩ বছরের জেল হয়।মূর্তি বা ভাস্কর্য ধ্বংস করলে তার ১ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত জেল হয়।এই আইন অনলাইন ও স্যোশাল মিডিয়াতেও প্রযোজ্য।চীনে " Hero and Martyrs Protection Law 2018" কার্যকর আছে। ইতিহাস বিকৃতি চীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। চীনের জাতির পিতা মাও সে তুং এর অপমান চীনে রাষ্ট্রীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।এতে চীনের রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সিভিল ও ফৌজদারি দুটোই মামলা করা যায়। চীনের ক্রিমিনাল ল -২৩৮ অনুসারে চীনের জাতির পিতার অপমান করলে নূন্যতম ৫ বছরের জেল দেওয়া হয়।মাও সে তুং এর বিরুদ্ধে অপমানজনক ও অবমাননার বক্তব্য ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত থাকলে Subversion of the state power এর Article 105 অনুসারে সে ব্যাক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান আছে চীনে।ভারতের সংবিধানে গান্ধীকে আনুষ্ঠানিকভাবে " ফাদার অফ দ্য নেশন " বলা হয়।এই নিয়ে ভারতের কোন রাজনৈতিক দলের কোন বিতর্ক নেই। ভারতীয় মুদ্রা রুপীতে গান্ধীর ছবি ব্যবহার করা হয়। সমগ্র ভারতে যে সরকার ক্ষমতায় থাকুক না কেন "গান্ধী জয়ন্তী" পালন করা হয়।এসব নিয়ে ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের কোন অভিযোগ নেই। ভারতীয় আইন " Prevention of Insult to National Honour Act , 1971" এ ভারতের সংবিধান, জাতীয়  সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকা অবমাননা করা গুরুতর রাষ্ট্রীয় অপরাধ। কিন্তু বাংলাদেশের সংসদে জাতীয় সঙ্গীত চলার সময়ও জামায়াতে ইসলামী নামক যুদ্ধাপরাধী রাজনৈতিক দল আমাদের জাতীয় সঙ্গীত অপমান করলেও তাদের কোন রাষ্ট্রীয় শাস্তি/ বিচার কোনটাই হয় না। সত্যি বড় আজব এক দেশ বাংলাদেশ।বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ২০১১ এর প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে " জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এটা শুধু রাজনৈতিক বা সামাজিক উপাধি নয় , সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃত একটি রাষ্ট্রীয় পরিচয়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে বঙ্গবন্ধুকে " Founder of Bangladesh " স্বীকৃতি দেয়। বঙ্গবন্ধুকে একজন বিশ্ব নেতা হিসেবে সম্মানিত করে।[TECHTARANGA-POST:7423]বাংলাদেশের ১৯৭২ এর  সংবিধানে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে অপমানজনক কথা বলা , বঙ্গবন্ধু অবমাননা করা সংবিধান ও রাষ্ট্রের আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।এসব অপরাধের শাস্তি হয় না বলেই দিন দিন এক অসভ্য জাতিতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ। এদের রুচি এত নিম্নমানের যে  কল্পনাও করতে পারবেন না।পাকিস্তানের জাতির পিতা জিন্নাহর ছবি পাকিস্তানের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু একমাত্র মুসলিম অনুভুতির দেশ বাংলাদেশে জাতির পিতার ছবি ব্যবহার করা হারাম।জাতির পিতার বিরুদ্ধে কখনো ইসলামের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক নোংরামি করা হয়।পাকিস্তানে যে সরকার ক্ষমতায় আসুক পাকিস্তানের টাকায় পাকিস্তানের জাতির পিতার ছবি বাধ্যতামূলক থাকবে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডলারে মার্কিনীদের জাতির পিতা জর্জ ওয়াশিংটন এর ছবি থাকলে কোন সমস্যা হয় না , পাকিস্তানের টাকায় তাদের জাতির পিতা জিন্নাহর ছবি থাকলে ধর্মের ক্ষতি হয় না , যত অন্ডকোষের চুলকানি সব বাংলাদেশের বেলায়।এত ভণ্ড মোল্লা , রাজনৈতিক ভণ্ড ও ফতোয়া বাজির দেশ আপনি এই পৃথিবীতে আর একটিও খুঁজে পাবেন না।জর্জ ওয়াশিংটন ও আব্রাহাম লিংকনকে সম্মান করতে আমেরিকায় এক দিন রাষ্ট্রীয় ছুটি ও " প্রেসিডেন্ট ডে" পালন করা হয়। আমেরিকার  প্রতিটি স্কুলে , সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তাদের জাতির পিতা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত হয়।আমাদের দেশের পঙ্গপাল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বার ভেঙে তার খুনী  ডালিমের নামে লুঙ্গি ড্যান্স দেয়। এমন শাউ মাউ হাদী ও জ-ঙ্গী আবু সাঈদ প্রজন্ম আপনি পৃথিবীর আর কোথাও পাবেন না।এমন নষ্ট ও অসভ্য প্রজন্মের দেশে আপনি মানুষের সম্মান আশা করবেন কীভাবে!আমাদের প্রতিবেশী ভারতে যেই প্রধানমন্ত্রী হোক, তাদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অবশ্যই তাদের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর ছবি থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে তাদের জাতির পিতা জর্জ ওয়াশিংটনের ছবি থাকে। চীনের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সহ সকল রাষ্ট্রীয় অফিসে পিপলস্ রিপাবলিক অফ চায়না এর প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুং এর ছবি থাকা বাধ্যতামূলক। পাকিস্তানের মত দেশেও যে সরকার ক্ষমতায় আসুক তাদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাদের জাতির পিতা জিন্নাহর ছবি থাকে।শুধু বাংলাদেশেই সরকার পরিবর্তনের সাথে জাতির পিতা ছবি পর্যন্ত পাল্টে যায়।এমন অসভ্য ও বর্বরতার উদাহরণ পৃথিবীতে আর একটিও আছে বলে দেখা যায় না।এই দেশের রাজনীতিবীদরা জন্মগতভাবেই ভণ্ড , দূর্নীতিবাজ , হিংসুক ও ক্ষমতালোভী বলে হিমালয় সমান বঙ্গবন্ধুর আর কোন রাজনৈতিক সমকক্ষ না হয়ে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ইসলামকে দাঁড় করিয়ে নষ্ট ও অসভ্য রাজনীতির সুযোগ নেয় ।বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত ছাত্রলীগের মাধ্যমে ১৯৪৮ সালে " রাষ্ট্র ভাষা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ" গঠনের মাধ্যমে আমরা মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর সুদীর্ঘ ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছরের সুদীর্ঘ কারাজীবন ত্যাগ ও সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর পৃথিবীর মানচিত্রে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের একটি লাল সবুজের রাষ্ট্র হিসেবে আমরা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছি।আজ বঙ্গবন্ধুর কল্যাণে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা সমগ্র পৃথিবীতে ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ এর স্বীকৃতি পেয়েছে। যে বঙ্গবন্ধুর জন্য আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি তিনি ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র ৩ বছর ৭ মাস। নৃশংসভাবে তার পরিবারের সকল সদস্যকে রাতের আঁধারে হত্যা করার পর বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার সব রকম চেষ্টা করা হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোন রাজনৈতিক নেতার সাথে এমন জঘণ্যতম অবিচারের উদাহরণ পৃথিবীর বুকে আর একটিও নেই।যে বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশের ইতিহাস , তাকে মিডিয়া আর্কাইভ থেকে মুছে ফেললেও বাঙালির হৃদয় থেকে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থেকে কোনদিনও মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি , ভবিষ্যতেও হবে না। বঙ্গবন্ধুকে যতই অপমান করো , পুরো পৃথিবী ততই সাক্ষ্য দিবে পৃথিবীর ৯০ টির বেশি আন্তর্জাতিক মিডিয়া ১৯৭১ সালের ২৭ ও ২৮ মার্চ তাদের পত্রিকার শিরোনামে বঙ্গবন্ধুকে " বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক " আখ্যা দিয়েছে। চাইলেই এই ইতিহাস পৃথিবীর কেউ আর মুছতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন নিয়ে পৃথিবী বিখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস এর " A Legacy of Blood " তথা বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস চাইলেও মুছে ফেলা যাবে না।গ্যারি জে বাসের  ব্লাড টেলিগ্রাম ' নিক্সন , কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগোটেন জেনোসাইড চাইলেও কেউ মুছতে পারবে না।আর্চার কে ব্লাডের ' আ ক্রয়েল বার্থ অফ বাংলাদেশ  বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস মুছে ফেলবে এই সাধ্য পৃথিবীর কার আছে? বঙ্গবন্ধুকে অপমান করা খুবই সহজ , কিন্তু একজন বঙ্গবন্ধু হওয়া সহজ নয়। বাঙালির  হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অর্জনের নাম আমার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময়  ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু প্রথম গ্রেফতার হয়েছিলেন,  বঙ্গবন্ধু আমাদের আলফা জেনারেশনের মাধ্যমে আবার স্বাধীন বাংলায় ফিরে আসবেন। ধানমন্ডি বত্রিশ হবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিল্প , সাহিত্য ও সংগ্রামের যাদুঘর।[TECHTARANGA-POST:7424]লেজার স্ক্যানিং ও ফটোগ্রাফিক ম্যাপিং ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বারের ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি করা হবে।সিমুলেশন প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে আমাদের বঙ্গবন্ধু আবার আমাদের লাল সবুজের বাংলায় ফিরবে।ভিআর ও এবার পদ্ধতি ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি পুনরায় ভিজ্যুয়াল নির্মাণ হবে।ফটোগ্রাফ , ভিডিও , ড্রয়িং , সাক্ষ্য , সঠিক রঙ ও নকশায় জিনোমিক স্টোরেজ ও ল্যান্ডস্কেপে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির থ্রিডি ডিজিটাল রিকনস্ট্রাকশন হবেই হবে।যতবারই হত্যা করো জন্মাবো আবার, দারুণ সূর্য হবো লিখবো নতুন ইতিহাস জয় বাংলার এই উচ্ছ্বাস , রুখবে এই সাধ্য আছে কারএই প্রশ্নগুলো কেবল আবেগের নয় এগুলো রাষ্ট্র, রাজনীতি, ইতিহাস ও আমাদের সম্মিলিত ভবিষ্যতের প্রশ্ন। আমরা কোন পথে যাবো, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত।লেখক: গণমাধ্যম কর্মী, ঢাকা

জাতির পিতার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি বাংলাদেশ

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার