কলকাতা: হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন বঙ্কিম রোডের হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির খবর। ওই এলাকায় রেলের তরফে চালানো হকার উচ্ছেদ অভিযানের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী জুন মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। বিচারপতি হীরণ্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কোনও ব্যবসায়ীকে হঠাৎ করে সরিয়ে দেওয়ার আগে তাঁদের নিজেদের বক্তব্য পেশ করার বা আত্মপক্ষ সমর্থনের আইনি সুযোগ দিতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১০ জুন।[TECHTARANGA-POST:9398]আদালতে হকার ও ব্যবসায়ীদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি যুক্তিসহকারে জানান, উচ্ছেদ নোটিস পাওয়া এই হকাররা কেউই বেআইনিভাবে বসেননি। তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ ‘হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ’ সংস্থাকে নিয়মিত ভাড়া দিয়েই সেখানে দোকান চালান। শুধু তাই নয়, নিয়মিত ভাড়া মেটানোর বৈধ রশিদও ব্যবসায়ীদের কাছে রয়েছে, যা এদিন মামলার আবেদনপত্রের সঙ্গে আদালতে পেশ করেন বিকাশ। তিনি আরও দাবি করেন, আবেদনকারী ব্যবসায়ীদের প্রত্যেকের নামে বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, জিএসটি এবং সার্ভিস ট্যাক্সের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। এই আইনি বৈধতার বিষয়টি হুগলি নদী জলপথ পরিবহণের পক্ষ থেকে আগেই রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও রেলের তরফে দেওয়া উচ্ছেদ নোটিসে কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের স্বাক্ষর ছিল না এবং তা ব্যক্তিগতভাবে কাউকে না দিয়ে নোংরাভাবে দেওয়ালে সেঁটে দেওয়া হয়েছিল। এই নোটিসগুলিকে অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানান তিনি।[TECHTARANGA-POST:9397]শুনানি চলাকালীন বিচারপতি হীরণ্ময় ভট্টাচার্য রেলের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, “আপনাদের এত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কারণ কী? হঠাৎ এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযানের প্রয়োজন হচ্ছে কেন? আপনারা কি কোনও নির্দিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এই উচ্ছেদ করছেন?” জবাবে রেলের আইনজীবী কুমারজ্যোতি তিওয়ারি আদালতকে জানান, ২০২৪ সালে গৃহীত ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের অধীনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনগুলিকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই প্রকল্পের তালিকাতেই অন্যতম প্রধান স্টেশন হিসেবে হাওড়া স্টেশনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেই কারণেই এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান।[TECHTARANGA-POST:9396]সবপক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, রেল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ওই হকারদের ডেকে তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য একটি শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে। সেই শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন হুগলি নদী জলপথ পরিবহণের প্রতিনিধিরাও। উচ্ছেদ সম্পর্কিত যে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই শুনানির পরই গ্রহণ করতে পারবে রেল। এবং সেই শুনানির নির্যাস ও সিদ্ধান্ত রিপোর্ট আকারে কলকাতা হাইকোর্টে জমা করতে হবে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপাতত নিজেদের রুটিরুজি বাঁচিয়ে আইনি লড়াইয়ের জন্য কিছুটা সময় পেলেন হাওড়ার বঙ্কিম রোডের হকাররা।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার