অভিষেকের প্রাসাদে সত্যিই চলবে বুলডোজার? পুর-নোটিস আসতেই বিস্ফোরক ‘ভাইপো’!
কলকাতা: আর জি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে একের পর এক দলীয় নেতার গ্রেফতারির মাঝেই এবার সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডেরায় হানা দিল প্রশাসন! সোমবার থেকেই নতুন করে জোর চর্চায় উঠে এসেছে অভিষেকের দুটি বিলাসবহুল বাড়ি — একটি হরিশ মুখার্জী রোডের ‘শান্তিনিকেতন’ এবং অন্যটি ১২১ কালীঘাট রোডের বাড়ি। যার নেপথ্যে রয়েছে কলকাতা পুরনিগমের পাঠানো নোটিস। [TECHTARANGA-POST:9273]এবার সেই নোটিস নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে দলের বিধায়কদের বৈঠকে কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তিনি হুঙ্কার দিলেন, "আমার বাড়ি ভেঙে দিক, নোটিস পাঠাক। আমি এসবের সামনে মাথানত করব না।"[TECHTARANGA-POST:9274]প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে কলকাতা পুরনিগমের নজরে রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোট ১৭টি সম্পত্তি। তবে, আপাতত ভবানীপুর বিধানসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডের পেল্লায় প্রাসাদ ‘শান্তিনিকেতন’ এবং ১২১ কালীঘাট রোডের বাড়িতে পুরনিগমের তরফে নোটিস পাঠানো হয়েছে।পুরনিগমের দাবি, ওই দুটি ঠিকানায় যে বহুতল নির্মাণ করা হয়েছে, তাতে ‘প্ল্যান-বহির্ভূত’ (বেআইনি) কিছু অংশ রয়েছে। নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আগামী সাতদিনের মধ্যে সেই প্ল্যান-বহির্ভূত বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলতে হবে। যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে থেকে তা না করেন, তবে পুরনিগমই সেখানে বুলডোজার চালিয়ে সেই অংশ গুঁড়িয়ে দেবে! [TECHTARANGA-POST:9216]উল্লেখ্য, হরিশ মুখার্জী রোডের বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকেন অভিষেক। অন্যদিকে, কালীঘাট রোডের বাড়িটি তাঁর মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে হলেও, সেটিকে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস (Leaps and Bounds) কোম্পানির সম্পত্তি হিসাবে দেখানো হয়েছে।মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে দলের বিধায়কদের নিয়ে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসেছিল। সেখানেই নিজের বাড়ির একাংশ ভেঙে দেওয়ার এই নোটিস নিয়ে প্রথমবার মুখ খোলেন অভিষেক।[TECHTARANGA-POST:9270]বিধায়কদের সামনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক বক্তব্য, “ওরা যা খুশি করুক। আমার বাড়ি ভেঙে দিক, নোটিস পাঠাক। আমি এসবের সামনে কোনও অবস্থাতেই মাথানত করব না। যা-ই হয়ে যাক না কেন, বিজেপির বিরুদ্ধে আমার এই রাজনৈতিক লড়াই চলবেই।”[TECHTARANGA-POST:9173]বৈঠকে শুধু নিজের বাড়ি বাঁচানোর লড়াই নয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন অভিষেক। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমাদের রাজ্যে অতীতে অনেক মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু, বর্তমান জনের মতো মানসিকতার মুখ্যমন্ত্রী বাংলা আগে কখনও দেখেনি। যাঁকে ক্যামেরার সামনে হাত পেতে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে, আজ তাকেই এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বানানো হয়েছে!”রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই শুভেন্দু বনাম অভিষেক দ্বৈরথ চরম আকার ধারণ করেছে। কিন্তু, এবার সরাসরি অভিষেকের বাসভবনে পুরনিগমের বুলডোজার চালানোর এই হুঁশিয়ারি এবং তার পাল্টা ‘ভাইপো’র এই অল-আউট হুঙ্কার আগামী দিনে বাংলার রাজনীতির মোড় কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।