ভবানীপুরে তুলুন দিদির সঙ্গে সেলফি! চমক ভাই কার্তিকের?
কলকাতা: বিয়েবাড়ি বা কোনও জমকালো অনুষ্ঠান নয়, এবার পাড়ার মোড়েই থাকবে ‘ফোটো বুথ’! বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে অভিনব প্রচার কৌশল নিল তৃণমূল কংগ্রেস। সাধারণ ভোটাররা এখন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে পারছেন। রাজনীতির আঙিনায় এমন ‘টেকসেভি’ প্রচারের ছোঁয়া পশ্চিমবঙ্গের ভোটযুদ্ধে সম্ভবত এই প্রথম।[TECHTARANGA-POST:7651]ভবানীপুরের বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত এই পরিকল্পনায় এলাকার আটটি ওয়ার্ডে বসানো হচ্ছে বিশেষ ‘ফোটো কর্নার’। ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তদল মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই চতুর্ভুজ আকৃতির বুথে একপাশে হাতজোড় করা মমতার ছবি, আর অন্যপাশ খালি রাখা হয়েছে ভোটারদের জন্য। স্লোগান দেওয়া হয়েছে — “উন্নয়নের পথে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে সবাই মিলে ছবি তুলুন, বাংলার কথা বলুন।” পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা, মুখ্যমন্ত্রীর ছবির সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হতে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই।[TECHTARANGA-POST:7645]তৃণমূলের এই ‘ফোটো বুথ’ কৌশল আসলে ভারতের বৃহত্তর ডিজিট্যাল রাজনৈতিক বিবর্তনেরই একটি অংশ। গত এক দশকে প্রচারের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে প্রযুক্তি। যেমন - ২০১৪-এর হলোগ্রাম: নরেন্দ্র মোদীর থ্রি-ডি হলোগ্রাম ভাষণ দিয়ে ভারতে ডিজিট্যাল প্রচারের জয়যাত্রা শুরু হয়।এআই ও ডিপফেক: বর্তমানে প্রয়াত নেতাদেরও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কথা বলানো বা প্রতিপক্ষের হাস্যকর ‘মিম’ তৈরি করা আইটি সেলগুলির প্রধান অস্ত্র।[TECHTARANGA-POST:7641]ইনফ্লুয়েন্সর মার্কেটিং: প্রার্থীরা এখন জনসভার চেয়ে ইনস্টাগ্রাম রিলস বা ইউটিউব ইনফ্লুয়েন্সরদের সঙ্গে ইন্টারভিউ দিতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন।[TECHTARANGA-POST:7634]মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের তিনবারের বিধায়ক হলেও এবার লড়াইকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ঘাসফুল শিবির। একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পুরনো লড়াইয়ের রেশ, অন্যদিকে ভোটারতালিকা থেকে প্রায় ৪৭ হাজার নাম বাদ যাওয়া — সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। অভিজ্ঞ নেতা ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত বক্সির উপর সংগঠনের ভার থাকলেও, আম-জনতার আবেগ ছুঁতে এই ‘ফোটো বুথ’ বা সেলফি জোনকে তুরুপের তাস মনে করছেন কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়রা।[TECHTARANGA-POST:7639]ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। কিন্তু, তার আগে ভবানীপুরের দেওয়ালে-দেওয়ালে এখন শুধুই ‘স্মাইল প্লিজ’-এর মেজাজ!