লাভলি-ঘনিষ্ঠদের নাম জড়াতেই তোলপাড়! সিআইডি হাজিরা এড়াতেই কি সাজানো নাটক? বিস্ফোরক সুকান্ত!
সোনারপুর: সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় এবার এক এক করে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরোতে শুরু করেছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে চারজনকে গ্রেফতার এবং আরও তিনজনকে আটক করা হলেও, আসল চমক মিলেছে ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, ধৃত মূল অভিযুক্তরা আসলে সোনারপুর দক্ষিণেরই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা টলিউড অভিনেত্রী লাভলি মৈত্রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ! খোদ দলের অন্দরের কোন্দলের জেরেই কি তবে আক্রান্ত হতে হলো অভিষেককে, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও গভীর রহস্য? এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবারের সেই রণক্ষেত্রের ঘটনায় আকাশ গায়েন, কাজল, দেবাশিস এবং জয় সেনগুপ্ত নামে চারজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। বেআইনি জমায়েত, পথ আটকানো এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। সূত্র মারফত খবর ছড়াতেই শোরগোল পড়ে যায় যে, ধৃত আকাশ ও তাঁর সঙ্গীরা এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ছায়াসঙ্গী হিসেবেই পরিচিত। তবে এই মারাত্মক অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন শহর থেকে দূরে থাকা লাভলি স্বয়ং। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি সাফ জানিয়েছেন, ধৃতদের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দূর-দূরান্তের কোনও সম্পর্ক নেই এবং তাঁরা কেউ দলের কর্মী নন। এমনকি নিজের দাবির সপক্ষে ধৃতদের ছবি ও পরিচয় ইতিমধ্যেই তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়েছেন বলেও দাবি করেন। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের পাশাপাশি উল্টে পুলিশের ভূমিকা নিয়েই বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলেছেন লাভলি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খোদ একজন হাইপ্রোফাইল সাংসদ এলাকায় আসছেন জেনেও কেন সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল না? কেন হামলার সময় পুলিশ সময়মতো পৌঁছল না? তিনি বাইরে না থাকলে নিজেই ঘটনাস্থলে যেতেন বলে দাবি করেন।অন্যদিকে, এই গোটা ঘটনায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে যখন জলঘোলা হচ্ছে, ঠিক তখনই এতে এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর মোড় এনে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর এই হামলা আসলে শাসকদলেরই এক পূর্বপরিকল্পিত নাটক কিনা, সেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি। এক সংবাদমাধ্যমকে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে সুকান্ত বাবু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে মনে করিয়ে দেন যে, সম্প্রতি অভিষেককে সিআইডি তলব করেছে। সেই অস্বস্তিকর হাজিরা এড়াতেই কি তড়িঘড়ি এই হামলার ছক কষে একটা পরিকল্পিত বিভ্রান্তি তৈরি করা হলো? সুকান্তর স্পষ্ট দাবি, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে এক গভীর রহস্য দানা বেঁধেছে, যা পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে খতিয়ে দেখতে হবে। বর্তমানে এই হাইভোল্টেজ মামলার তদন্তে নেমে চারপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ভিডিও স্ক্যান করতে শুরু করেছে পুলিশ। প্রশাসনের ইঙ্গিত, এই ঘটনায় আগামীতে গ্রেফতারির সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে।[TECHTARANGA-POST:9639]হিডেন স্টোরিজ নিউজ