সম্মুখসমরে দুই হেভিওয়েট! তৃণমূলের গৃহযুদ্ধ এবার দিল্লিতে!
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলের দীর্ঘদিনের সুপ্ত কোন্দল এবার একেবারে প্রকাশ্য রাস্তায় এসে আছড়ে পড়ল। শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চরম গালিগালাজ এবং অভব্য আচরণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে খোদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তৃণমূলের এই দুই হেভিওয়েট সাংসদের এমন নজিরবিহীন সংঘাতের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। যদিও কাকলির তোলা সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টে তাঁর তীব্র কটাক্ষ, সস্তা পাবলিসিটি পেয়ে রাজনৈতিক বাজারে কোনোমতে ভেসে থাকার জন্যই এখন এমন মরিয়া চেষ্টা করছেন কাকলি।আসলে বিগত কয়েকদিন ধরেই জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে বারাসতের এই মহিলা সাংসদের সুর বেশ বেসুরো শোনাচ্ছিল। সম্প্রতি কল্যাণী চত্বরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে আচমকাই সশরীরে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। আর সেই ঘটনার ঠিক চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলের সমস্ত রকম সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বসেন তিনি। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে পাঠানো সেই ইস্তফাপত্রে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নিজের তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন কাকলি। অল ইন্ডিয়া মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে চিরতরে অব্যাহতি চেয়ে তিনি সাফ লিখেছিলেন, যে পদে আসীন থেকেও নিজের দলেরই এক অশিক্ষিত ও অভদ্র সাংসদের অশালীন আচরণ থেকে অন্য মহিলা সাংসদদের আড়াল করা যায় না, সেই পদে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই চিঠিতে নাম না করলেও কাকলির মূল নিশানা যে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিলেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।এরই মধ্যে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে প্রকাশ্যে আসে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের লেটার হেডে লেখা স্পিকারের উদ্দেশ্যে সেই মারাত্মক চিঠিটি। যেখানে লোকসভার স্পিকারের কাছে কল্যাণের বিরুদ্ধে রীতিমতো অভিযোগ দায়েরের আইনি অনুমতি চেয়েছেন কাকলি। চিঠিতে অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি একা নন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে আরও একাধিক মহিলা সাংসদের সঙ্গে চরম আপত্তিকর আচরণ করেছেন কল্যাণ। এই মারাত্মক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীরামপুরের সাংসদ অবশ্য বেশ চড়া সুরেই জবাব দিয়েছেন। কল্যাণবাবু স্পষ্ট জানান, সঠিক সময়ে তিনি এর যোগ্য উত্তর দিয়ে দেবেন, সেটা কোনো বড় বিষয় নয়। তবে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, আজ ২৮ মে ২০২৬, অর্থাৎ ইদের ছুটির দিন, এই ছুটির দিনে কাকলি কীভাবে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি পাঠালেন। একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, যদি তিনি কোনো গালিগালাজ করেই থাকেন, তবে তখন কেন অভিযোগ করা হলো না। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের এই চরম অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে।[TECHTARANGA-POST:9551]হিডেন স্টোরিজ নিউজ