বিমানবন্দরে গুলিবৃষ্টি, সেনাঘাঁটি দখল! দাউদাউ করে জ্বলছে মালি, নেপথ্যে কি তবে আল-কায়দা?
বামাকো (মালি): ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের ডামাডোলের মাঝেই এবার রক্তাক্ত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি। শনিবার ভোরে রাজধানী বামাকো-সহ দেশের একাধিক শহরে একযোগে শুরু হয়েছে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সেনার মূল ঘাঁটি - সর্বত্রই এখন শুধু গুলির শব্দ আর বারুদের গন্ধ। এই সুপরিকল্পিত হামলায় কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা দেশ।[TECHTARANGA-POST:8398]শনিবার ভোরে যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমে মগ্ন, তখনই কেঁপে ওঠে রাজধানী বামাকো। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালির সেনার মূল ঘাঁটিতে পরপর দু’টি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। প্রায় একই সময়ে সশস্ত্র জঙ্গিরা হামলা চালায় মালির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ভারী অস্ত্র ও অটোমেটিক রাইফেল নিয়ে সেখানে লাগাতার গুলিবৃষ্টি শুরু করে তারা।[TECHTARANGA-POST:8387]বিস্ফোরণ ও হামলার খবর মিলেছে মালির আরও কয়েকটি শহর থেকে। যেমন - সেভারে শহরে সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে জোড়া হামলা চালানো হয়। উত্তর মালির দুই গুরুত্বপূর্ণ দুই শহর - গাও এবং কিদালে রীতিমতো সমন্বয় করে হামলা চালানো হয়েছে!এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী সরাসরি দায় স্বীকার না করলেও সন্দেহ করা হচ্ছে আল-কায়দা অথবা আইসিস সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলিকে। মালির উত্তর দিকে দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্রোহীদের দাপট রয়েছে। সোনা ও বহুমূল্য ধাতুর ভাণ্ডার থাকায় এই দেশটি দখল করতে মরিয়া একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিয়োয় দাবি করা হয়েছে, বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটি ইতিমধ্যেই জঙ্গিদের কবলে চলে গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:8363]২০২০ ও ২০২১ সালে পরপর দু’বার সেনা অভ্যুত্থানের সাক্ষী ছিল মালি। বর্তমানে সেদেশের সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের দমনে রাশিয়ার ভাড়াটে সৈন্য দল ‘ওয়াগনার গ্রুপ’-এর সাহায্য নিচ্ছে। বুরকিনা ফাসো এবং নাইজারের সঙ্গে মিলে মালি তৈরি করেছে ‘অ্যালায়েন্স অফ সাহেল স্টেটস’। বিশ্লেষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, রাশিয়ার এই প্রভাব রুখতেই কি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি তাদের আক্রমণের তীব্রতা বাড়াল?[TECHTARANGA-POST:8360]রাজধানী বামাকো বর্তমানে সেনার কড়া পাহারায় থাকলেও মোড়ে মোড়ে শোনা গিয়েছে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ। বিমানবন্দরের সমস্ত উড়ান বাতিল করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন মালির দিকে, কারণ এই অস্থিরতা গোটা পশ্চিম আফ্রিকার নিরাপত্তার জন্য এক বড় অশনি সঙ্কেত।