কলকাতার স্কুলে এবার মিড ডে মিল দেবে ইসকন! ‘ইচ্ছা না থাকলে হরে কৃষ্ণ বলবেন না’, সাফ কথা শুভেন্দুর, বাচ্চাদের পাতে আর কী কী থাকছে?
কলকাতা: রাজ্যের প্রাথমিক স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির ভোলবদল করতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী মাস্টারস্ট্রোক দিল নতুন সরকার। [TECHTARANGA-POST:10141]মিড ডে মিলের মান বাড়ানো থেকে শুরু করে পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ— একঝাঁক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। আর এর মধ্যেই সবচেয়ে বড় ধামাকা হল, কলকাতার স্কুলগুলিতে এবার মিড ডে মিলের খাবার তৈরি ও সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সংস্থা ‘ইস্কন’-কে। এই সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হতেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যাঁদের ইচ্ছা নেই, তাঁরা ‘হরে কৃষ্ণ’ বলবেন না, কিন্তু শিশুদের পুষ্টিকর খাবার পাওয়া আটকে রাখা যাবে না।[TECHTARANGA-POST:10163]শিক্ষাবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই মিড ডে মিলের খাবারের মান নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভুরি ভুরি অভিযোগ আসছিল। সেই সমস্ত বিতর্ক ধুয়ে মুছে সাফ করতেই এবার সরাসরি ইসকনের সেন্ট্রালাইজড কিচেনের পুষ্টিকর নিরামিষ আহার পড়ুয়াদের পাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"পুরসভার টাকায় মাস্তান পোষা নারুগোপাল এখন পালাচ্ছেন"—দুর্নীতির হিসাব চেয়ে সরব জেলা কংগ্রেসকলকাতায় ইসকনের এন্ট্রি ছাড়াও গোটা রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলগুলির জন্য একগুচ্ছ খুশির খবর এনেছে এই মেগা প্রজেক্ট। শিশুদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের দৈনিক বরাদ্দ খরচ একধাক্কায় বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হচ্ছে, যাতে খাবারের গুণগত মান আরও উন্নত করা যায়। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত ‘কুক কাম হেল্পার’ বা রান্নাকর্মীরা প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে শিশুদের মুখে গরম খাবার তুলে দেন, তাঁদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে মাসিক সাম্মানিক একধাক্কায় ১,০০০ টাকা বৃদ্ধি করার বড় ঘোষণা করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10151]মিড ডে মিলের পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি আইসিডিএস (ICDS) সেন্টার, প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি স্কুলের সামগ্রিক পরিবেশ বদলে দিতে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। এবার থেকে আর ঘুঁটে বা কয়লার ধোঁয়ায় দমবন্ধ করা পরিবেশে রান্না করতে হবে না মা-বোনেদের; প্রতিটি স্কুলে সুনিশ্চিত করা হচ্ছে রান্নার গ্যাস কানেকশন ও উন্নত চকচকে বাসনপত্র।[TECHTARANGA-POST:10161] পরিবেশবান্ধব শক্তির জন্য স্কুলগুলিতে বসানো হচ্ছে সোলার প্লেট এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য ওয়াটার পিউরিফায়ার স্থাপন করা বাধ্যতামূলক হচ্ছে। এমনকি, তীব্র গরমের হাত থেকে কচিকঁচাদের রেহাই দিতে প্রত্যন্ত গ্রামের প্রতিটি প্রাইমারি স্কুলেও বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা করছে শুভেন্দু সরকার, যা গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।