৫ লাখের চাকরি কেলেঙ্কারি! দল ছাড়তেই পুলিশের জালে পড়ার ভয়? মানস ভুঁইয়ার জন্য নজিরবিহীন শর্ত
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেছিলেন সবংয়ের বর্ষীয়ান রাজনীতিক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। কিন্তু দল ছাড়ার রেশ কাটতে না কাটতেই চাকরি দেওয়ার নামে ৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার মামলায় রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন সবংয়ের এই সাত বারের বিধায়ক। গ্রেফতারির চরম আশঙ্কা নিয়ে অবশেষে তিনি দ্বারস্থ হয়েছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ প্রাক্তন মন্ত্রীকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিলেও, আদালতের বেঁধে দেওয়া কড়া নিয়মাবলী তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় একপ্রকার বেড়ি পরিয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।প্রতারণার এই ঘটনার সূত্রপাত সবংয়ের বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে। স্থানীয় এক যুবকের অভিযোগ, মানস ভুঁইয়ার মধ্যস্থতায় পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে গত ১ মার্চ তেমাথানী ইরিগেশন বাংলোয় সিআইএসবি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের অধীনে একটি চাকরি পান তাঁর স্ত্রী। প্রথম মাসের বেতন মিললেও, গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মাত্র দু'মাসের মাথায়, অর্থাৎ ৬ মে ওই মহিলাকে আচমকা চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। টাকা দিয়েও চাকরি খোয়ানোয় ক্ষুব্ধ ওই যুবক সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হন। প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। এই এফআইআর-এর জেরেই গ্রেফতারি এড়াতে মরিয়া হয়ে হাই কোর্টের রক্ষাকবচ চান মানস।আদালত এদিন মানস ভুঁইয়ার রক্ষাকবচের আবেদন মঞ্জুর করলেও তাঁর ওপর বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত নিজের বিধানসভা কেন্দ্র অর্থাৎ সবং থানা এলাকার বাইরে কোনোভাবেই পা রাখতে পারবেন না এই বর্ষীয়ান নেতা। একই সঙ্গে তদন্তকারী সংস্থাকে সব রকম সহযোগিতা করার পাশাপাশি স্থানীয় থানায় অবিলম্বে নিজের পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে তাঁকে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন মানস ভুঁইয়া, তবে আদালতের এই কড়া শর্তের পর সবংয়ের বাইরে তাঁর গতিবিধি পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গেল।[TECHTARANGA-POST:10898]হিডেন স্টোরিজ নিউজ