তৃণমূলের বিরুদ্ধে শাহের ‘চার্জশিট’: একগুচ্ছ অভিযোগে বিদ্ধ শাসকদল
কলকাতা: ঝটিকা সফরে কলকাতা এসে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ সম্বলিত ‘চার্জশিট’ পেশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার কলকাতায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অনুপ্রবেশ, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি এবং জনবিন্যাস পরিবর্তনের মতো ইস্যুগুলিকে হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলায় এখন ‘ভয় বনাম ভরসা’র লড়াই চলছে।[TECHTARANGA-POST:7652]অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাস বদলের অভিযোগ:অমিত শাহের আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল অনুপ্রবেশ সমস্যা। তিনি বলেন, “অসমে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে। কিন্তু, বাংলায় অরাজকতা চলছে।” তাঁর দাবি, রাজ্যে অনুপ্রবেশের কারণে জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। ওবিসি তালিকায় ৭৫ শতাংশই মুসলমান বলে অভিযোগ তুলে শাহ প্রশ্ন করেন, “বঙ্গবাসী কি তবে নিজেদের রাজ্যে সংখ্যালঘু হয়ে পড়ার ভয় পাবে না?” সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে রাজ্য সরকার অসহযোগিতা করছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:7638]নারীসুরক্ষা ও আর জি কর ইস্যু:রাজ্যের নারীসুরক্ষা নিয়ে সরব হয়ে শাহ তাঁর চার্জশিটে আর জি কর, কামদুনি, সন্দেশখালি এবং কসবা ল কলেজের মতো একাধিক ঘটনা উল্লেখ করেন। আর জি কর ইস্যুতে তৃণমূল সাংসদ মেনকা গুরুস্বামীকেও বিঁধতে ছাড়েননি তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।সিন্ডিকেটরাজ ও ‘ভিকটিম কার্ড’:[TECHTARANGA-POST:7642]তৃণমূলের শাসনকালকে ‘দুর্নীতির ল্যাবরেটরি’ বলে কটাক্ষ করেন অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়ে রাজ্যে আসলে সিন্ডিকেটরাজ চালানো হচ্ছে। দুর্নীতির কারণে বাংলায় শিল্প আসছে না, ফলে যুবসমাজ কর্মহীন হয়ে পড়ছে। শাহের আরও দাবি, ভোট এলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও ‘পা ভাঙা’ তো কখনও ‘মাথা ফাটা’র মতো ইস্যু তুলে ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলেন এবং নির্বাচন কমিশনকে গালিগালাজ করেন।বিজেপির প্রতিশ্রুতি ও তৃণমূলের পাল্টা তোপ:[TECHTARANGA-POST:7639]আগামী ৪ মে ফলপ্রকাশের পর ৬ মে বাংলায় বিজেপি সরকার গড়বে বলে আত্মবিশ্বাসী শাহ। ক্ষমতায় এলে দরিদ্রদের বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার পাল্টা জবাবে জানিয়েছেন, সীমান্তরক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রের এবং অনুপ্রবেশ রুখতে ব্যর্থতার দায় সম্পূর্ণভাবে শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উপরেই বর্তায়।