ভাঙড়ে নজিরবিহীন গান-যুদ্ধ! ‘মাছ চোর’ কটাক্ষে মেজাজ হারালেন শওকত, নওশাদকে বিঁধলেন তীব্র আক্রমণে
ভোটের বাজারে ভাঙড়ের রাজনীতিতে এখন তপ্ত হাওয়া, আর সেই উত্তাপে ঘি ঢেলেছে আইএসএফ সমর্থকদের তৈরি একটি গান। ‘মাছ চোর শওকত’— এই বিতর্কিত গানের কলি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ভাঙড়ের অলিগলিতে এখন সুপারহিট। প্রচারের শেষ লগ্নে বাঙালির মাছের আবেগকে হাতিয়ার করে তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লাকে সরাসরি আক্রমণ করা এই গানটি ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। [TECHTARANGA-POST:8595]যদিও আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে কর্মীদের এই গান না বাজানোর অনুরোধ জানিয়েছেন, তবে বাস্তবের চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মীদের মোবাইলে মোবাইলে ঘুরছে এই ‘মাছ চোর’ সুর, যা রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলেছে ঘাসফুল শিবিরকে।[TECHTARANGA-POST:8656]এই গানের পাল্টা দিতে গিয়ে মেজাজ হারিয়ে নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা। সরাসরি নওশাদ সিদ্দিকির নাম না নিলেও তাঁকে ‘ধর্ষক, খুনি, সমাজবিরোধী এবং জঙ্গি’ বলে তোপ দেগেছেন তিনি। শওকতের দাবি, রাজনৈতিক লড়াইয়ে জিততে না পেরে চরম হতাশা থেকেই আইএসএফ কর্মীরা এই ধরনের কুরুচিকর গান বেঁধেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাঁরা এই নোংরামো করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এর যোগ্য জবাব মিলবে ৪ মে গণনার দিন। এক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে এভাবে ‘চোর’ অপবাদ দিয়ে গান বাঁধা যায় কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।[TECHTARANGA-POST:8629]নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে বিতর্ক যাই হোক, ভাঙড়ের নির্বাচনী ময়দানে ‘মাছ চোর’ গানটি যে এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একদিকে গানের জনপ্রিয়তা আর অন্যদিকে পাল্টা কড়া ভাষায় ব্যক্তিগত আক্রমণ— দুইয়ে মিলে ভাঙড়ের ভোটযুদ্ধের শেষ মুহূর্তের লড়াই এখন ব্যক্তিগত কুৎসা ও সংঘাতের পর্যায়ে পৌঁছেছে। ৪ জুন ইভিএম খোলার পর এই সুরের লড়াই ভাঙড়ের তখতে কার আধিপত্য বজায় রাখে, এখন সেটাই দেখার।