Hidden Stories (বাংলা)

ফের রক্তাক্ত পাকিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়ায় ‘অটো-বোমা’ বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল শিশুরও

ইসলামাবাদ: সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর পাকিস্তানে এবার খোদ থানার সামনেই ফাটল ‘অটো-বোমা’! সোমবার সকালে উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বানু জেলায় এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে এক শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। ওয়াজিরিস্তান সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকায় অটোর ভিতর বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থা এখন কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।বিস্ফোরণটি যেখানে ঘটেছে, তার ঢিল ছোড়া দূরত্বেই রয়েছে স্থানীয় থানা। পুলিশের নাকের ডগায় একটি বিস্ফোরক ঠাসা অটো দাঁড়িয়ে রইল, অথচ দেশের গোয়েন্দা বা নিরাপত্তাবাহিনী তা টেরও পেল না — এটি পাক প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা হিসাবেই দেখা হচ্ছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় এক নিরীহ শিশু। মৃত্যু হয়েছে আরও একজনের। ঘটনায় জখম ১৬ জনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান যে সন্ত্রাসবাদকে এতদিন প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে এসেছে, আজ সেই বিষবৃক্ষই তাদের গিলে খেতে শুরু করেছে। আফগানিস্তান সীমান্ত লাগোয়া এই অঞ্চলে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) এবং বালোচ বিদ্রোহীরা সমান্তরাল প্রশাসন চালাচ্ছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় ৩১ জনের মৃত্যুর ক্ষত শুকোনোর আগেই এই হামলা বুঝিয়ে দিল, জঙ্গিরা এখন পাকিস্তানের যেকোনও প্রান্তেই আঘাত হানতে সক্ষম।খাইবার পাখতুনখোয়ায় প্রায় প্রতিদিনই নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ লেগে থাকছে। খোদ রাজধানী ইসলামাবাদের মসজিদে হামলা হওয়ার পর দেশজুড়ে চিরুনি তল্লাশি ও গ্রেফতারির দাবি করলেও, বাস্তবে যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা শূন্য —তা আজকের এই ‘অটো-বোমা’ বিস্ফোরণেই স্পষ্ট।যে দেশটি নিজেদের পরমাণু শক্তিধর বলে দাবি করে, সেই দেশের সাধারণ মানুষ আজ নিরাপদ নয়। ইসলামাবাদের মসজিদে ১৬৯ জন জখম হওয়ার ঘটনার পর প্রশাসনের দাবি ছিল, তারা বিদ্রোহীদের কোমর ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু, সোমবারের এই বিস্ফোরণ সেই দাবি নস্যাৎ করে দিল। একদিকে অর্থনৈতিক দেউলিয়া দশা, অন্যদিকে দেশের ভিতরই একের পর এক গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও জঙ্গি হানা — পাকিস্তানকে আজ একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।পাকিস্তান সরকার যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর বা অন্যান্য ইস্যুতে চিৎকার করতে ব্যস্ত, তখন তাদের ঘরের ভিতরই শিয়রে শমন হয়ে দাঁড়িয়েছে সন্ত্রাসবাদ। যতক্ষণ না ইসলামাবাদ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘গুড টেররিস্ট-ব্যাড টেররিস্ট’ ভেদাভেদ ভুলে কড়া ব্যবস্থা নেবে, ততক্ষণ পাকিস্তানের মাটি এভাবেই নিরীহ মানুষের রক্তে লাল হতে থাকবে। আজকের এই বিস্ফোরণ কেবল বানু জেলার বিপর্যয় নয়, এটি পাকিস্তানের গোটা শাসনব্যবস্থারই দেউলিয়া হওয়ার প্রমাণ।

ফের রক্তাক্ত পাকিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়ায় ‘অটো-বোমা’ বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল শিশুরও

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার