কলকাতা: রাজনৈতিক ময়দানে আক্রমণ শানাতে তিনি অভ্যস্ত, কিন্তু এবার প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে ‘কবিতা’কে বেছে নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার অভিষেকও এসআইআর (SIR) ইস্যু এবং তার জেরে ঘটে যাওয়া মানুষের দুর্গতি নিয়ে গর্জে উঠলেন কলমে। সোমবার তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ‘আমি অস্বীকার করি’ শীর্ষক কবিতাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।অভিষেকের এই কবিতায় যে ধরণের শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে, তা সাধারণত বাম বা অতিবাম মনস্ক লেখকদের কলমে দেখা যায়। কবিতায় তিনি এসআইআরের কারণে মৃত ১৫০ জন মানুষের যন্ত্রণাকে তুলে ধরেছেন। নিজেকে ‘সাক্ষী’ হিসেবে উপস্থাপন করে তিনি বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় তুলে লিখেছেন:“আমি অস্বীকার করি— এই হঠকারিতা, এই তালিকার শাসন, এই ভয়ের রাজত্ব। আমি অস্বীকার করি— রাষ্ট্রের নামে রক্তের ঋণ, আমি অস্বীকার করি— রক্তের উপর কালির শাসন।”অভিষেকের কবিতার মেজাজে অনেকেই প্রখ্যাত কবি নবারুণ ভট্টাচার্যের ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’ কবিতার ছায়া দেখছেন। নবারুণ যেমন লিখেছিলেন, ‘যে পিতা সন্তানের লাশ শনাক্ত করতে ভয় পায়, আমি তাকে ঘৃণা করি’, অভিষেকের কবিতাতেও ঠিক একইভাবে রাষ্ট্রের ‘শোষণ যন্ত্র’ হয়ে ওঠার বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ও অস্বীকার প্রকাশ পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেকের এই কাব্যিক স্বর কেবল আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, এর পিছনে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ থাকতে পারে।বাম মনস্কদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা? যে ভাষায় তিনি রাষ্ট্রের বিরোধিতা করেছেন, তা মূলত বিজেপি-বিরোধী বামপন্থী মানসিকতার মানুষের মন জয়ের কৌশল হতে পারে।সদ্য সমাপ্ত বইমেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও এসআইআর নিয়ে কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। নেত্রীর সেই ধারা বজায় রেখেই অভিষেক নিজের বিরোধী স্বরকে আরও ধারালো করলেন।এসআইআর নিয়ে মানুষের হয়রানি যখন তুঙ্গে, তখন শাসকদলের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তির এই ‘বিদ্রোহী’ কবিতা দিল্লির শাসকদের ওপর চাপ বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার