ট্রাম্পের ঘোষণায় সাময়িক স্বস্তি বিশ্ববাজারে, ১৫% কমল অপরিশোধিত তেলের দাম!
নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ কিছুটা হালকা হতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল বিশ্ব অর্থনীতি। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা পাঁচদিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা করতেই আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে নামল অপরিশোধিত তেলের দাম। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ।[TECHTARANGA-POST:7535]সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম ছিল ১১৪ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১০,৬০০ টাকা)। কিন্তু, ট্রাম্পের ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র বার্তার পর দিনের শেষে সেই দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৯৬ মার্কিন ডলারে (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮,৯০০ টাকা)।অন্যদিকে, আমেরিকার বাজারে তেলের মূল্য নির্ধারণের সূচক ‘ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’-এ প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১৩.৫ শতাংশ কমে হয়েছে ৮৫.২৮ মার্কিন ডলার। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকার কারণে যে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এই দরহ্রাস তা কিছুটা হলেও প্রশমিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।এদিকে, পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের জ্বালানি ও সার আমদানিতে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে, সোমবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতে পেট্রল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের জোগান সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্র সবরকম পদক্ষেপ করছে। সরকারের বক্তব্য হল, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করা বা পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এই জলপথের গুরুত্ব অপরিসীম এবং সরকার বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়েও সজাগ।[TECHTARANGA-POST:7534]এই প্রেক্ষাপটে গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ট্রাম্প ইরানকে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি ধ্বংস করে দেওয়া হবে। পাল্টা ইরানও মার্কিন পরিকাঠামোয় হামলার হুমকি দেয়। এই সংঘাতের আশঙ্কায় তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছিল। কিন্তু, সোমবার ট্রাম্প পাঁচদিনের জন্য হামলা স্থগিত রাখায় এবং আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়ায় বাজার পুনরায় স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে।তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই স্বস্তি সাময়িক হতে পারে। কারণ ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, আলোচনার অগ্রগতির উপরই নির্ভর করবে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ।