Hidden Stories (বাংলা)

শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ শেখ সুফিয়ান! প্রার্থী হতে চাইলেন না পবিত্রও, নন্দীগ্রামে মুখ পুড়ল তৃণমূলের

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের মেগা পুনর্নির্বাচনে চতুর্থ স্থানে নেমে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরম মুখ পুড়ল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের। ভবানীপুরের বিধায়ক পদ নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনে এই হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র থেকে প্রায় ১০ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু। তাঁর ইস্তফার পর এই শূন্য আসনে উপনির্বাচন এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু ভোট ঘোষণার আগেই নন্দীগ্রামে লড়াই করার মতো কোনও যোগ্য প্রার্থী খুঁজে না পেয়ে কার্যত মহাসঙ্কটে পড়েছে জোড়াফুল শিবির। একদা দলের দুই হেভিওয়েট ও বিশ্বস্ত সেনাপতি পবিত্র কর এবং শেখ সুফিয়ান— দু’জনেই একযোগে ভোটের লড়াই থেকে হাত তুলে নেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন আলিমুদ্দিন ও ক্যামাক স্ট্রিটের কর্তারা।[TECHTARANGA-POST:9447]দলীয় সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর নন্দীগ্রামে আর দাঁড়াতে রাজি হননি পবিত্র কর। তিনি পরিষ্কার না বলে দেওয়ার পরেই রাজ্য স্তরের তৃণমূল নেতারা তড়িঘড়ি নন্দীগ্রামের পুরনো ও হেভিওয়েট মুখ শেখ সুফিয়ানের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। দোলা সেন সহ তৃণমূলের একঝাঁক শীর্ষ নেতা সরাসরি সুফিয়ানের নন্দীগ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব সপাটে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল নেতাদের সামনেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন ক্ষুব্ধ সুফিয়ান। ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী তথা পরবর্তীকালের জেলা পরিষদের এই দাপুটে কর্মাধ্যক্ষ সাফ জানান, “দলের কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না। এতদিন বার বার অধিকারী পরিবারের বিরুদ্ধে মুখ খোলার জন্য আমাদের উস্কানি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কাজ মিটে যাওয়ার পর দলের আর কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগই রাখেনি।”[TECHTARANGA-POST:9423]তৃণমূল নেতাদের সবথেকে বড় ধাক্কাটি লাগে যখন একসময়ের পরম শত্রু তথা খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নামে ভূয়সী প্রশংসা শোনা যায় সুফিয়ানের মুখে। শুভেন্দুর সাংগঠনিক দক্ষতার দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে সুফিয়ান স্পষ্ট জানান, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যথেষ্ট সফল হওয়ার এবং নতুনভাবে বাংলাকে নেতৃত্ব দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। শুধু তাই নয়, নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র হিসেবে শুভেন্দু আগামী দিনে নন্দীগ্রামবাসীকে অনেক কিছু দেবেন এবং এলাকার প্রভূত উন্নয়ন করবেন বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি। একদা নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রধান মুখ শেখ সুফিয়ানের মুখে খোদ বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর এই স্তুতি এবং দলের শীর্ষ নেতাদের মুখের ওপর টিকিট প্রত্যাখ্যানের ঘটনা তৃণমূলের অন্দরে যে কতটা বড় ফাটল ধরিয়ে দিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।[TECHTARANGA-POST:9396]ফলতায় ভরাডুবির পর নন্দীগ্রামের মতো প্রেস্টিজ ফাইট কেন্দ্রে প্রার্থী খুঁজতে গিয়ে তৃণমূলের এই কালঘাম ছোটার ঘটনাকে চরম কটাক্ষ করেছে বিজেপি শিবির। গেরুয়া নেতৃত্বের দাবি, ফলতার মানুষ ইভিএমে যে রায় দিয়েছেন, তা দেখেই বাকি সব কেন্দ্রের তৃণমূল নেতারা এখন বুঝে গিয়েছেন যে মানুষের আর জোড়াফুলের ওপর কোনও ভরসা নেই, তাই হারের ভয়ে কেউ আর বলির পাঁঠা হতে টিকিট নিতে চাইছেন না। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে শেখ সুফিয়ানের মতো দীর্ঘদিনের বিরোধী নেতার এই ভোলবদল এবং শুভেন্দুর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশের পর নন্দীগ্রামে বিজেপির জয়ের মার্জিন যে আরও কয়েক গুণ বাড়তে চলেছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। প্রার্থী জটের এই গোলকধাঁধা কাটিয়ে তৃণমূল শেষ পর্যন্ত কাকে নন্দীগ্রামের এই অগ্নিপরীক্ষায় দাঁড় করায়, এখন সেটাই দেখার।

শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ শেখ সুফিয়ান! প্রার্থী হতে চাইলেন না পবিত্রও, নন্দীগ্রামে মুখ পুড়ল তৃণমূলের

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার