'পাগল' বা অতিহিংস্র পথকুকুরদের মেরে ফেলা যাবে! সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন রায়ে তোলপাড় দেশ
নয়াদিল্লি: পথকুকুরদের উপদ্রব ও আক্রমণ নিয়ে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত শোনাল। কোনও পথকুকুর যদি ‘পাগল’ হয়ে যায় কিংবা মাত্রাতিরিক্ত হিংস্র হয়ে ওঠে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে আইন মেনে তাকে মেরে ফেলা বা ‘নিষ্কৃতিমৃত্যু’ (Euthanasia) দেওয়া যেতে পারে। মঙ্গলবার পথকুকুর সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এই বড় রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে, জনবহুল জায়গা থেকে পথকুকুর সরানোর বিষয়ে তাদের আগের দেওয়া নির্দেশও বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত।[TECHTARANGA-POST:9263]গতবছরের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল — রাস্তাঘাট, পার্ক, হাসপাতাল বা রেল স্টেশনের মতো জনবহুল এলাকা থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে ফেলতে হবে। এই নির্দেশের পর দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং রায় সংশোধনের আর্জি জানিয়ে একগুচ্ছ আবেদন জমা পড়েছিল। মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এন ভি অঞ্জরিয়ার তিন সদস্যের বেঞ্চ সেই সমস্ত আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9249]মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। আদালতের বক্তব্য, কুকুরের কামড়ের ভয় ছাড়া শান্তিতে বেঁচে থাকার অধিকারও মানুষের ‘মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের অধিকার’ (Right to Life with Dignity)-এর মধ্যে পড়ে। রাস্তাঘাটে বা সর্বসাধারণের ব্যবহারের জায়গায় যেভাবে কুকুরের উপদ্রব বাড়ছে, তা অত্যন্ত ‘উদ্বেগজনক’। প্রতিনিয়ত সাধারণ পথচারী, শিশু এবং বয়স্ক মানুষ যেভাবে কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছে, সেই কঠোর বাস্তব পরিস্থিতিকে আদালত কোনওভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না।[TECHTARANGA-POST:9206]‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, যে সমস্ত এলাকায় পথকুকুরের সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।আদালতের নির্দেশ, "বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘পশুদের উপর নিষ্ঠুরতা দমন আইন’, ‘পশুদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিধি’ এবং অন্যান্য প্রোটোকল মেনে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা যেতে পারে। এর মধ্যে পাগল হয়ে যাওয়া, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত বা অত্যন্ত হিংস্র হয়ে যাওয়া কুকুরকে নিষ্কৃতিমৃত্যু (মেরে ফেলা) দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।"[TECHTARANGA-POST:9221]সুপ্রিম কোর্ট দেশের সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এই পথকুকুরের উপদ্রব মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত নভেম্বরের রায় পুনর্বিবেচনার এই আবেদনগুলির শুনানি শেষে গত ২৯ জানুয়ারি রায়দান স্থগিত রেখেছিল শীর্ষ আদালত। শুনানির সময়ে পঞ্জাব, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলির ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল আদালত। মঙ্গলবারের এই চূড়ান্ত রায়ের পর দেশজুড়ে পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।