‘শিক্ষাকে পণ্য করতে দেব না’! রাজ্যের ৮১ হাজার স্কুল নিয়ে শুভেন্দুর মেগা মাস্টারপ্ল্যান
কলকাতা: বঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার শিক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দিতে কোমর বেঁধে নামল নতুন সরকার। রাজ্যে বহুল চর্চিত জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) চালুর প্রাক্কালে সোমবার বিকেলে সল্টলেকের বিকাশ ভবনে উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী, স্কুল শিক্ষামন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কোনোভাবেই শিক্ষাকে পণ্য করতে দেওয়া হবে না। তৃণমূল জমানায় নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে মিড-ডে মিল কেলেঙ্কারির জেরে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার যে মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছিল, তা মেরামত করে রাজ্যের ৮১ হাজার সরকারি স্কুলের মানোন্নয়ন ও খোলনলচে বদলে ফেলতে নবান্ন এবার বদ্ধপরিকর।বিকাশ ভবনের এই ম্যারাথন বৈঠকে রাজ্যের স্কুলগুলিতে স্কুলছুটের সংখ্যা কমাতে এবং পঠনপাঠনের পরিবেশ উন্নত করতে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, এবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিলের রান্না কাঠকয়লার বদলে সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলকভাবে গ্যাস সিলিন্ডারে করতে হবে। শুধু তাই নয়, স্কুলগুলির বিদ্যুৎ খরচ বাঁচাতে এবং পরিবেশবান্ধব করে তুলতে সোলার সিস্টেম বা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের সুস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি স্কুলে পরিশ্রুত পানীয় জলের জন্য অ্যাকোয়া গার্ড বসানো এবং সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে জাতীয় শিক্ষা নীতিকে রাজ্যে কার্যকর করতে দিনের পর দিন আটকে রেখেছিল, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই তা দ্রুত বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, পরিকাঠামোগত এই বিপুল পরিবর্তনের মূল লক্ষ্যই হলো শিক্ষার গুণগত মান আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়া। ৮১ হাজার স্কুলের এই ভোলবদল প্রকল্প আগামী দিনে রাজ্যের প্রান্তিক স্তরের পড়ুয়াদেরও আধুনিক শিক্ষার আলো পেতে সাহায্য করবে বলে আশাবাদী শিক্ষাবিদদের একাংশ।[TECHTARANGA-POST:10920]হিডেন স্টোরিজ নিউজ