অভয়ার মায়ের পর এবার কামদুনির টুম্পা, ‘বহিরাগত’ তত্ত্বে ক্ষুব্ধ পুরনো কর্মীরা
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী নির্বাচন এবং সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে চরম অস্বস্তিতে বঙ্গ বিজেপি। বিশেষ করে আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের পর এবার কামদুনির প্রতিবাদী মুখ টুম্পা কয়ালের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা দলের অন্দরেই বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের ‘আদি’ নেতাদের বসিয়ে রেখে কেন বারবার গ্ল্যামার বা আন্দোলনের মুখদের ওপর ভরসা করছে শীর্ষ নেতৃত্ব— এই প্রশ্নই এখন সল্টলেকের সদর দপ্তরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:7502]শনিবার সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ টুম্পা কয়াল। বিজেপিতে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি জানান, “রাজনীতি ছাড়া আন্দোলন চালানো অত্যন্ত কঠিন। মানুষের পাশে দাঁড়াতেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” যদিও শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, দলে যোগদানের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তবে টুম্পার এই যোগদান যে নিছক সদস্যপদ পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাঁকে প্রার্থী করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ— তা নিয়ে নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল।[TECHTARANGA-POST:7480]বিজেপির অন্দরে এখন প্রধান অভিযোগ হলো— যারা বছরের পর বছর ঘাম-রক্ত দিয়ে সংগঠন তৈরি করেছেন, তাঁদের গুরুত্ব না দিয়ে ‘রেডিমেড’ মুখদের টিকিট দেওয়া হচ্ছে। এর আগে কামদুনিরই আরেক মুখ মৌসুমী কয়ালকে নিয়ে ২০২১ ও ২০২৪ সালে জল্পনা হলেও শেষমেশ তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি, যা নিয়ে ক্ষোভ কম ছিল না। এবার অভয়ার মা-কে পানিহাটি থেকে প্রার্থী করার সম্ভাবনা এবং তালিকায় টুম্পার নাম আসায় পুরনো কর্মীদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটছে।[TECHTARANGA-POST:7497]দলের কর্মীদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, বারবার বাইরে থেকে আসা সদস্যদের নিয়ে এই বাড়তি মাতামাতির কারণেই কি বঙ্গ বিজেপি বারবার জয়ের দোরগোড়া থেকে ফিরে আসছে? সংগঠনকে মজবুত করার চেয়ে ‘চমক’ দেওয়া মুখদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কি দলের স্থায়ী ক্ষতি করছে? শনিবার সল্টলেকের দপ্তরে জমা হওয়া কর্মীদের ভিড়ে এই ক্ষোভ ছিল স্পষ্ট।[TECHTARANGA-POST:7491]ভোটের ময়দানে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করার আগে এই অভ্যন্তরীণ ‘গৃহযুদ্ধ’ সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ সুকান্ত-শমীকদের কাছে।