‘তোমার স্বপ্নের ভারত…’, রাজীবের মৃত্যুবার্ষিকীতে অদেখা ছবি শেয়ার করে আবেগঘন রাহুল
নয়াদিল্লি: আজ থেকে ঠিক ৩৫ বছর আগে তামিলনাড়ুর শ্রীপেরুম্বুদুরে এক নির্বাচনী জনসভায় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল ভারতের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীর দেহ। সেই ক্ষত আজও দগদগে। আজ, বৃহস্পতিবার ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিক মাধ্যমে এক অত্যন্ত আবেগঘন বার্তা দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। [TECHTARANGA-POST:9336]বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পুরনো ও অদেখা ছবি শেয়ার করেছেন কংগ্রেস সাংসদ, যেখানে ছোট্ট রাহুলের সঙ্গে ফ্রেম ভাগ করে নিতে দেখা যাচ্ছে তাঁর বাবা রাজীব গান্ধীকে। সেই আবেগঘন পোস্টের পাশে বর্তমানের একটি ছবিও জুড়ে দিয়েছেন রাহুল, যেখানে দিল্লির ‘বীর ভূমি’-তে বাবার সমাধিতে গভীর শ্রদ্ধায় ফুল দিতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। জোড়া ছবির কোলাজ পোস্ট করে রাহুল লিখেছেন, “বাবা, তুমি এক দক্ষ, সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী ভারত গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলে। সেই স্বপ্নকে বাস্তব করার সমস্ত দায়িত্ব আমি নিজের কাঁধে তুলে নিলাম। তোমার শিক্ষা, মূল্যবোধ আর স্মৃতি আমার সঙ্গে সবসময় থাকবে।”[TECHTARANGA-POST:9244]বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দিল্লির বীর ভূমিতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হয়েছিলেন গান্ধী পরিবারের সদস্যরা ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। মা সোনিয়া গান্ধী ও বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বীর ভূমিতে কাটান রাহুল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, যিনি রাজীব গান্ধীর একটি বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করে এক্স হ্যান্ডেলে গভীর শোকপ্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তিনি নিজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট করে লেখেন, “প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীজির মৃত্যুবার্ষিকীতে আমার শ্রদ্ধা জানাই।” মূলত তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে রাজীব গান্ধীকে আজও ভারতের বহু বিশেষজ্ঞ 'আধুনিক ভারতের কারিগর' বলে অভিহিত করে থাকেন।[TECHTARANGA-POST:9236]ফিরে তাকালে মনে পড়ে যায় ১৯৯১ সালের সেই অভিশপ্ত ২১ মে-র রাত। তামিলনাড়ুর নির্বাচনী জনসভায় প্রচারের মাঝেই জঙ্গি সংগঠন ‘লিবারেশন টাইগারস অফ তামিল ইলম’ (এলটিটিই)-এর এক মহিলা আত্মঘাতী বোমারু রাজীব গান্ধীকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালত মুরুগান, সান্থান, পেরারিভালান, জয়াকুমার, রবিচন্দ্রন, রবার্ট পায়াস এবং নলিনী—এই সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়। [TECHTARANGA-POST:9295]তবে পরবর্তীতে স্বয়ং সোনিয়া গান্ধীর মানবিক হস্তক্ষেপ ও ক্ষমার আবেদনে আদালত মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ ৩৩ বছর কারাবাসের পর আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে এই মামলার সমস্ত দোষী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে গিয়েছে। রাজীব গান্ধীর প্রয়াণ দিবসকে কেন্দ্র করে আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় সন্ত্রাসবাদ বিরোধী দিবস’।