যুবসাথীর টাকা নিয়ে চরম বিভ্রাট! মেসেজ এলেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট শূন্য, 'ট্রানজাকশন ফেইল্ড' আতঙ্কে লক্ষ লক্ষ বেকার
কলকাতা: বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় ঘোষণা ছিল ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। কিন্তু প্রকল্প চালুর প্রথম সপ্তাহেই দেখা দিল চরম অব্যবস্থা। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সিদের মাসে ১,৫০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বহু আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেও ঢুকছে না। মোবাইলে টাকা ঢোকার মেসেজ আসার কিছুক্ষণ পরেই আসছে 'ট্রানজাকশন ফেইল্ড'-এর বার্তা। এই গোলমালকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে।[TECHTARANGA-POST:7218]গত ৭ মার্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্পের টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও, বিশেষ করে অনলাইন আবেদনকারীরাই বড়সড় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। কলকাতা পুরসভার ৯৯, ১০০ ও ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের বহু আবেদনকারীর অভিযোগ, যুবসাথী পোর্টাল থেকে টাকা ক্রেডিট হওয়ার মেসেজ এলেও বাস্তবে ব্যাঙ্কে কোনো টাকা জমা পড়েনি। উল্টে একদিন পরেই অর্থ দফতর থেকে মেসেজ পাঠিয়ে জানানো হচ্ছে যে লেনদেন ব্যর্থ হয়েছে।সমস্যার মূলে রয়েছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যে গরমিল। আবেদনকারীদের দাবি, অনেকের ১৪ সংখ্যার অ্যাকাউন্ট নম্বর থাকলেও মেসেজে দেখাচ্ছে ১৩টি সংখ্যা। যাঁদের অ্যাকাউন্ট নম্বর 'শূন্য' (০) দিয়ে শুরু, তাঁদের ক্ষেত্রে সেই শূন্যটি গায়েব হয়ে গেছে। এর ফলে ব্যাঙ্কের সার্ভার ডেটা ম্যাচ করতে পারছে না এবং টাকা রিফান্ড হয়ে যাচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:7216]সমস্যা সমাধানে পুরসভা বা বোরো অফিসে গেলে মিলছে না সদুত্তর। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি আধিকারিকরা দায় ঝেড়ে ফেলে জানাচ্ছেন, অনলাইনে আবেদন করায় তাঁদের কিছু করার নেই। সরাসরি ট্রেজারি বিল্ডিংয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, যুবসাথী পোর্টালের হেল্পলাইন নম্বরও সুইচড অফ থাকায় বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। এমনকি সরকারি ফান্ডের অভাব নিয়ে কিছু আধিকারিকের মন্তব্যে দানা বাঁধছে নতুন বিতর্ক।[TECHTARANGA-POST:7215]সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ১৯ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৭৯ জন অনলাইনে এই ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের টাকা নিয়ে এই প্রযুক্তিগত বিভ্রাট বা আর্থিক জটিলতা যদি দ্রুত না মেটে, তবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তা শাসক দলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন দেখার, সরকার এই ‘অ্যাকাউন্ট বিভ্রাট’ কাটিয়ে কবে বেকারদের হাতে টাকা পৌঁছে দিতে পারে।