Hidden Stories (বাংলা)

সচিবের টেবিলে পেপার ওয়েট চাপা দিয়ে ‘গোপন’ চিঠি রাখলেন কুণাল! বিধানসভায় নজিরবিহীন ড্রামা, চরম বিপাকে তৃণমূল

কলকাতা: ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবির পর এবার বিধানসভার ভেতরে অস্তিত্ব রক্ষার মরিয়া লড়াইয়ে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। দলে একের পর এক বিধায়কদের বিদ্রোহ ও ভাঙন ঠেকাতে না পেরে অন্তত বিধানসভায় ‘প্রধান বিরোধী দল’-এর তকমাটুকু বাঁচিয়ে রাখতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। [TECHTARANGA-POST:9687]আর এই উদ্দেশ্যেই মঙ্গলবার দুপুরে এক নজিরবিহীন নাটকীয় কাণ্ড ঘটে গেল রাজ্য বিধানসভার অন্দরে। নয়া আইনি চিঠি হাতে হঠাৎ বিধানসভায় হাজির হন তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং অসীমা পাত্র। স্পিকার রথীন বোস উপস্থিত না থাকায় সেই চিঠি তাঁরা স্পিকারের সচিবের কাছে জমা দিতে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে কার্যত চরম অপমানের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। তৃণমূলের দুই বিধায়কের মুখের ওপর স্পিকারের সচিব সাফ জানিয়ে দেন, তিনি কোনো অবস্থাতেই এই চিঠি গ্রহণ করবেন না![TECHTARANGA-POST:9700]চিঠি জমা না নেওয়ার এই বেনজির ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল বিধায়করা। কুণাল ঘোষের স্পষ্ট অভিযোগ, সোমবারও দলের তরফে একটি চিঠি জমা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই চিঠি রিসিভ করার পরেই নাকি স্পিকারের সচিবের ওপর ওপরমহল থেকে কড়া ফতোয়া জারি করা হয়েছে। স্পিকারের দপ্তর এবং বিধানসভার সচিবালয় থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিরোধী দলের কাছ থেকে আর কোনো চিঠি নেওয়া যাবে না। [TECHTARANGA-POST:9689]কুণালবাবু তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “স্পিকার নিজে দেখা করবেন না, আবার চিঠিও দেওয়া যাবে না— এটা কোনো গণতন্ত্রে হয় নাকি!” তবে দমে যাওয়ার পাত্র যে তিনি নন, তা প্রমাণ করতেই সচিবের চেয়ারে চিঠির ওপর পেপার ওয়েট চাপা দিয়ে রেখে আসেন কুণাল এবং গোটা ঘটনার প্রমাণ রাখতে পুরো বিষয়টির ভিডিওগ্রাফি করে নেন। স্পিকারের তরফ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া না মিললেও, রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানিয়েছেন, যেহেতু সই জাল কাণ্ডের তদন্ত করছে সিআইডি (CID) এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা আসছেন, তাই হয়তো আইনি কারণেই চিঠি জমা না নেওয়ার নির্দেশিকা থাকতে পারে।[TECHTARANGA-POST:9682]কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যে চিঠি জমা দেওয়া নিয়ে বিধানসভা চত্বরে আজ এত বড় ড্রামা হয়ে গেল, কী এমন লেখা আছে তাতে? তৃণমূল সূত্রের খবর, সোমবার স্পিকারের কাছে যে মূল চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল, তাতে সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়ের উল্লেখ রয়েছে। ওই রায়ে বলা হয়েছে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা নির্ধারণ করার একক ক্ষমতা রয়েছে সংশ্লিষ্ট বৃহত্তম বিরোধী দলের হাইকমান্ডের হাতে, সাধারণ বিধায়কদের ভোটে নয়। [TECHTARANGA-POST:9638]ফলে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসাবে বেছে নিয়ে যে চিঠি দিয়েছিলেন, আইনিভাবে সেটাই ১০০ শতাংশ বৈধ। সোমবার সেই চিঠিটি গৃহীত হলেও, মঙ্গলবার তারই একটি বর্ধিত আইনি নথি ও ব্যাখ্যা জমা দিতে গিয়েছিলেন কুণাল ও অসীমা। কিন্তু নতুন জমানার বিধানসভা সচিবালয় যেভাবে তৃণমূলের সেই চিঠি নিতে অস্বীকার করল, তাতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিরোধী দলনেতা’র পদ এবং বিধানসভায় তৃণমূলের প্রধান বিরোধী দলের তকমা থাকা নিয়ে এক বিরাট বড় আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়ে গেল।

সচিবের টেবিলে পেপার ওয়েট চাপা দিয়ে ‘গোপন’ চিঠি রাখলেন কুণাল! বিধানসভায় নজিরবিহীন ড্রামা, চরম বিপাকে তৃণমূল

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার