তৃণমূল পার্টি অফিসে রাশি রাশি আধার কার্ড, বীরভূমে মাঠ থেকে উদ্ধার ভোটার কার্ড!
সল্টলেক: বঙ্গে ভোট মিটতেই রবিবারের সকালে রাজ্যজুড়ে জোড়া ঘটনায় তীব্র শোরগোল। সল্টলেকের বিধাননগর পুরসভার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসন্তী দেবী কলোনি এলাকায় একটি তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস থেকে থরে থরে সাজানো একাধিক আধার কার্ড উদ্ধার ঘিরে শুরু হয়েছে তুলকালাম। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি আধার কার্ড ওই কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয়েছে। ঘটনা জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চেয়ে নেওয়া হতো, কিন্তু পরে আর তা ফেরত দেওয়া হতো না। স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি, সাধারণ ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই নথিগুলি আটকে রাখা হয়েছিল। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় স্থানীয় থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। খোদ শাসক দলের কার্যালয়ে কীভাবে এবং কেন এতগুলি আধার কার্ড মজুত করে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:9223]অন্যদিকে, সল্টলেকের এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বীরভূমের নানুর থেকেও বিপুল পরিমাণ ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নানুরের এক বিএলও (BLO)-র বাড়ির ঠিক পাশের একটি ফাঁকা মাঠ থেকে উদ্ধার হয় রাশি রাশি সরকারি ভোটার কার্ড। মাঠের মধ্যে অতগুলি কার্ড পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সমস্ত কার্ড বাজেয়াপ্ত করে এবং বিএলও-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তড়িঘড়ি নিজেদের হেফাজতে নেয়। সরকারি আধিকারিকের বাড়ির পাশ থেকে কীভাবে এই পরিচয়পত্রগুলি বাইরে এল এবং এর পিছনে কোনও গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ভোট শেষ হতেই রাজ্যের দুই প্রান্ত থেকে নথিপত্র উদ্ধারের এই জোড়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।