‘মেয়েকে খুন ও আমার মুখে অ্যাসিড মারার ছক কষেছিল দলই!’ তৃণমূলের ‘হাকিম-বিশ্বাস’দের পৈশাচিক চেহারা নিয়ে বিস্ফোরক বৈশাখী
কলকাতা: বঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার চরম বিস্ফোরণ। দলের নেতাদের তীব্র অহংকার ও ক্ষমতার দম্ভকেই ভরাডুবির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে এবার সরাসরি নিশানা করলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেছেন, অতীতে তাঁর নাবালিকা মেয়েকে খুন করার এবং তাঁর নিজের মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারার এক ভয়ঙ্কর চক্রান্ত করা হয়েছিল, যার নেপথ্যে ছিলেন খোদ তৃণমূলেরই এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি।[TECHTARANGA-POST:9220] ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের সেই শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বৈশাখী জানান, তৎকালীন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক রাতে খেতে গিয়ে তিনি একটি উড়ো মেসেজ পান। মেসেজটি পাঠিয়েছিলেন তাঁরই এক নারী নিরাপত্তারক্ষীর স্বামী, যিনি স্পষ্ট জানান যে তাঁর স্ত্রীকে মোটা টাকা দেওয়া হয়েছে বৈশাখীর মেয়েকে শেষ করতে এবং বৈশাখীর মুখে অ্যাসিড মারতে। শুধু তাই নয়, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি ভুয়ো ধর্ষণের মামলা দায়ের করার জন্যও বিপুল অঙ্কের টাকা ছড়ানো হয়েছিল।[TECHTARANGA-POST:9219]এই মারাত্মক জীবন সংশয়ের কথা জানতে পেরে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় তড়িঘড়ি তৎকালীন police কমিশনারের দ্বারস্থ হয়ে এফআইআর (FIR) দায়ের করেন। তাঁর দাবি, এক আইপিএস (IPS) অফিসারের সামনেই অভিযুক্ত যুবক স্বীকার করেছিল যে ঠিক কতগুলি কিস্তিতে এই খুনের চক্রান্তের সুপারি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত বড় স্বীকারোক্তির পরও তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। নিরুপায় হয়ে বৈশাখী জাতীয় মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হলেও, এক প্রভাবশালী আইপিএস অফিসার পুরো ঘটনাটিকে ‘ফিগমেন্ট অফ ইমাজিনেশন’ বা ‘কাল্পনিক গল্প’ বলে উড়িয়ে দিয়ে রিপোর্ট জমা দেন। বর্তমানে রাজ্যে বেশ কিছু আইপিএস অফিসারের সাসপেন্ড হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বৈশাখী জানান, তিনি সেই সময়কার স্বীকারোক্তির ভিডিও কপি আবারও কমিশনের কাছে জমা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাবেন।[TECHTARANGA-POST:9218]দলীয় নেতাদের আক্রমণ করতে গিয়ে বৈশাখী আরও বলেন, তৃণমূলের মধ্যে কেবল একজন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন না, দলের মধ্যে এখনও এমন অনেক চট্টোপাধ্যায়, মুখার্জি, বিশ্বাস এবং হাকিমরা রয়েছেন, যাঁদের পৈশাচিক চেহারা মানুষ খুব ভালো করেই চেনেন। কলকাতা পুরসভার বিদায়ী মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে তিনি তোপ দাগেন, যে ফিরহাদ হাকিম একদিন ক্ষমতা দেখিয়ে তাঁকে কলেজ থেকে ‘উপড়ে ফেলে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছিলেন, আজ প্রকৃতির নিয়মে মানুষ তাঁর দলকেই রাজ্যের বহু জায়গা থেকে উপড়ে ফেলে দিয়েছে। এতদিন ধরে তৃণমূলের রাজনীতির আবর্তে তিনি নিজের আসল পরিচয়টাই হারিয়ে ফেলছিলেন বলে আক্ষেপ প্রকাশ করে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বঙ্গে ক্ষমতার এই পালাবদলের পর অবশেষে তিনি মুক্ত বাতাসে স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারছেন।