খেলায় জয়ই কাল! বাড়ি থেকে ডেকে কিশোরকে নৃশংস খুন, রণক্ষেত্র বারুইপুর
বারুইপুর: নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত বারুইপুর। সেই ক্ষোভের আগুন নিভতে না নিভতেই ফের এক হাড়হিম করা খুনের ঘটনায় নতুন করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। ফুটবল খেলায় জেতার ‘অপরাধে’ এক ১৭ বছরের কিশোরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল তিন যুবকের বিরুদ্ধে। মৃতের নাম প্রসেনজিৎ বিশ্বাস (১৭)। বারুইপুর পালপাড়া ব্যাঙ্ক সংলগ্ন এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক ভাঙচুর ও রাস্তা অবরোধ করেন উত্তেজিত বাসিন্দারা।[TECHTARANGA-POST:10693]স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত দিনতিনেক আগে একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে। ওই খেলায় প্রসেনজিতের দল জিতে যাওয়ায় প্রতিপক্ষ শিবিরের কয়েকজন যুবকের সঙ্গে চরম ঝামেলা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেই আক্রোশ মনে পুষে রেখেই এদিন প্রসেনজিৎকে একা পেয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত তিন যুবক। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়।[TECHTARANGA-POST:10670] খবর ছড়াতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। এরপর উত্তেজিত জনতা বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হন। হাসপাতাল চত্বরে থাকা পুলিশ ক্যাম্পেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। মৃতের দাদার ক্ষোভ, “বাচ্চা ছেলেটাকে কুপিয়ে খুন করল। অথচ পুলিশ আমাদের ভাইয়ের দেহ দেখতে দিচ্ছে না, উল্টে খুনিদের আটকে রেখেছে। আমরা এর চরম বিচার চাই।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়। ইতিমধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছে।[TECHTARANGA-POST:10676]প্রসঙ্গত, গত রবিবারই বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে এক নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়ে রয়েছে। সেই ঘটনায় সিট গঠন ও তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তথ্য-প্রমাণ ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার স্বার্থে তাদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি আইনজীবীর মতে, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মামলা। নাবালিকা মৃত্যুর জেরে যখন মহকুমা জুড়ে চরম রাজনৈতিক পারদ চড়ছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক সেই আবহে ফুটবল ম্যাচ ঘিরে এই দ্বিতীয় খুনের ঘটনা বারুইপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও একবার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।