চোখে জল, গলা বুজে আসছে! সাতসকালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘দল ছাড়ার’ ঘোষণা তৃণমূল কাউন্সিলরের, তোলপাড় অনুব্রতর জেলা!
দুবরাজপুর: চোখে টলটলে জল, কথা বলতে গিয়ে বারবার গলা ধরে আসছে। কোনো রকমে নিজেকে সামলে নিয়ে বীরভূমের দুবরাজপুরের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর সাগর কুণ্ডু জানিয়ে দিলেন, তিনি আর তৃণমূলই করবেন না! অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের জেলায় শাসকদলের অন্দরে এবার যেন এক চরম বিস্ফোরণ ঘটল। শুধু পুরসভার কাউন্সিলর পদই নয়, শহর যুব তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। [TECHTARANGA-POST:9500]দল ও পদের মায়া ত্যাগ করে মঙ্গলবার সাতসকালে নিজের ওয়ার্ডের পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে জনে জনে বলে এলেন, তৃণমূলের সঙ্গে তিনি সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করছেন। বঙ্গে চলমান রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে যুবনেতার এমন কাঁদতে কাঁদতে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় ওলটপুরাণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:9484]দুবরাজপুর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাগর কুণ্ডু প্রথমে সমাজমাধ্যমে এবং পরে সরাসরি জনসমক্ষে এসে নিজের এই চরম সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার ভোর হতেই তিনি নিজের ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যান এবং আবেগঘন কণ্ঠে জানান যে এখন থেকে তিনি আর কাউন্সিলর নন, বরং সাধারণ মানুষের ‘প্রাক্তন পুরপিতা’। সাগর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কঠিন হলেও এই সিদ্ধান্ত তাঁকে বাধ্য হয়েই নিতে হয়েছে। দল এবং পদ ছাড়লেও তিনি আগের মতোই সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন। তবে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতা হারানোর কারণেই কি তাঁর এই আকস্মিক দলত্যাগ? এমন প্রশ্নের উত্তরে সাগরের তাৎপর্যপূর্ণ ও ঘুরিয়ে জবাব, “এমন দিন দেখতে হবে তা হয়তো কোনো দিন ভাবিনি। তবে মানুষের রায়ই শেষ কথা।”[TECHTARANGA-POST:9479]সাগরের এই ‘আকস্মিক ইস্তফা’ নিয়ে দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক অনুপকুমার সাহা অবশ্য এখনই নরম হতে নারাজ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, সরকারিভাবে ইস্তফাপত্র জমা পড়লে তবেই দল পরবর্তী পদক্ষেপ খতিয়ে দেখবে। তবে এর মাঝেই এক বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি দিয়ে বিধায়ক বলেন, দুবরাজপুর পুরসভায় বিগত দিনে যে সমস্ত কাজ হয়েছে, তার নিরিখে প্রত্যেক কাউন্সিলরের কাজের দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। কেউ কোথাও কোনো দুর্নীতি করে থাকলে তাকে কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। বিধায়কের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, তবে কি কোনো দুর্নীতির তদন্তের খাঁড়া নেমে আসার ভয়েই আগেভাগে দল ছাড়লেন এই যুবনেতা?[TECHTARANGA-POST:9451]রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব ইতিমধ্যেই পুরসভাগুলির ওপর পড়তে শুরু করেছে। বঙ্গে পালাবদল ঘটতেই একের পর এক পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলররা ইস্তফা দিচ্ছেন, যার ফলে পুরপ্রশাসনগুলিতে এক চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শাসকদলকে তীব্র খোঁচা দিতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবির। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল দলটাই এবার রাজ্য থেকে পুরোপুরি উঠে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ডুবন্ত নৌকোয় থেকে কে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে চাইবে? তাই সাগরের সাথে যা হওয়ার, ঠিক তাই হয়েছে। অনুব্রতর গড় বলে পরিচিত বীরভূমে যুব সভাপতির এমন বিদায় তৃণমূলের অন্দরের ফাটলকেই আরও একবার প্রকাশ্য রাস্তায় এনে দাঁড় করাল।