Hidden Stories (বাংলা)

‘হোল্ডিং সেন্টার’ চালুর জের? হাকিমপুর সীমান্তে প্লাস্টিক পেতে বসলেন অনুপ্রবেশকারীরা, বাংলাদেশে ফেরার হুড়োহুড়ি!

বসিরহাট: রাজ্যে সরকার বদল হতেই এক নাটকীয় ও নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্ত। লোকসভা নির্বাচন ও বঙ্গে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকে সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা এবার এক সম্পূর্ণ নতুন মোড় নিল। সোমবার ও মঙ্গলবার সকাল থেকে হাকিমপুর চেকপোস্টের কাছে ট্রলি, ব্যাগপত্র এবং লোটা-কম্বল নিয়ে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন দলে দলে অবৈধ অভিবাসী। প্লাস্টিক পেতে জটলা করে বসে থাকা এই মানুষগুলির একটাই তাগিদ— কখন ডাক আসবে আর কখন তাঁরা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারবেন! সম্প্রতি রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে জেলায় জেলায় সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির কড়া নির্দেশ আসতেই অবৈধবাসীদের মধ্যে এই দেশ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।[TECHTARANGA-POST:9502]হাকিমপুর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চেকপোস্টের কাছে গত দুদিন ধরেই এই ভিড় ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। সোমবার যেখানে চেকপোস্টের ছাউনিতে প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী জড়ো হয়েছিলেন, সেখানে মঙ্গলবার সকাল হতেই আরও বহু মানুষ এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগেই নবান্নের নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে রাজ্যে অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের রাখার জন্য বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’ চালু করা হচ্ছে। নবান্নের নির্দেশ অনুসারে, সন্দেহভাজনদের আটক করে এই সমস্ত কেন্দ্রে ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা যাবে এবং যাঁদের ইতিপূর্বে ধরা হয়েছিল কিংবা যাঁদের পুশব্যাকের প্রক্রিয়া চলছে, তাঁরাও এই কেন্দ্রেই থাকবেন। সরকারের এই একটিমাত্র সিদ্ধান্তই অনুপ্রবেশকারীদের নিজে থেকে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার নেপথ্যে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:9501]সীমান্তের এই দৃশ্য অবশ্য নতুন নয়। গত বছরের অক্টোবর মাসের শেষে যখন পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘোষণা করা হয়েছিল, তখনও ঠিক একইভাবে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যস্ততা দেখা গিয়েছিল। সেই সময় নিউটাউন, দমদম, ডানকুনির মতো শিল্পাঞ্চল ও শহরতলি এলাকা থেকে দলে দলে অবৈধবাসী এই হাকিমপুর সীমান্ত দিয়েই নিজেদের দেশে ফিরে যান। কিন্তু পরবর্তীতে তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এসআইআর প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করা এবং খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের জেরে এই প্রক্রিয়া স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। বিজেপির একাংশের দাবি, তৎকালীন সরকারের সেই অবস্থানের ফলে অনেকে ‘আশ্বস্ত’ হয়ে ভারতেই থেকে গিয়েছিলেন, যা এবার সরকার বদলাতেই সম্পূর্ণ উল্টে গেল।[TECHTARANGA-POST:9500]তৎকালীন বিরোধী দল এবং বর্তমান শাসক দল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনের আগেই বার বার দাবি করেছিলেন যে, রাজ্যে সরকার বদল হলে অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করার জন্য বাড়তি খাটতে হবে না, তাঁরা আইনি প্রক্রিয়ার ভয়ে নিজে থেকেই পাততাড়ি গুটিয়ে পালাবেন। বাস্তবে ঠিক সেই নভেম্বরের শেষের এবং ডিসেম্বরের স্মৃতিই যেন আবার ফিরে এল হাকিমপুর সীমান্তে। নবান্নের নির্দেশে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির জন্য জমি দেখার কাজও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে গিয়েছে। এই কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার খাঁড়া মাথার ওপর আসতেই অনুপ্রবেশকারীদের স্রোত এখন উল্টো অভিমুখে, অর্থাৎ বাংলাদেশের দিকে বইতে শুরু করেছে, যা সীমান্ত রাজনীতিতে এক মস্ত বড় পরিবর্তন।

‘হোল্ডিং সেন্টার’ চালুর জের? হাকিমপুর সীমান্তে প্লাস্টিক পেতে বসলেন অনুপ্রবেশকারীরা, বাংলাদেশে ফেরার হুড়োহুড়ি!

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার