'হুমায়ুনের নেতৃত্বে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক একজোট', ২০২৬-এর আগে নজিরবিহীন সমীকরণের দাবি শুভেন্দুর
কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা এখন সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে আমূল পরিবর্তনের দাবি তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি রীতিমতো বোমা ফাটিয়ে দাবি করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ এখন রেজিনগরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে জোটবদ্ধ হয়েছে। শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, এই জোটের লক্ষ্য হলো ফের বাবরি মসজিদ নির্মাণ এবং ভবিষ্যতে রাজ্যের মসনদে একজন মুসলিম মুখ্যমন্ত্রীকে বসানো। এই নব্য রাজনৈতিক সমীকরণ আগামী নির্বাচনে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।[TECHTARANGA-POST:7143]এই ইস্যুতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, শাসকদল দীর্ঘ এক দশক ধরে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণকে হাতিয়ার করে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি করছে। ২০২১ এবং ২০২৪-এর নির্বাচনে সিএএ (CAA) ও এনআরসি (NRC) জুজু দেখিয়ে মুসলিম ভোট কুড়োনোর যে চেষ্টা তৃণমূল করেছিল, এবার পরিস্থিতি তার থেকে অনেকটাই আলাদা বলে তাঁর দাবি। শুভেন্দুর মতে, কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এখন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন ধরনের জোট তৈরি হচ্ছে, যা তৃণমূলের চিরাচরিত ভোটব্যাঙ্ককে ধাক্কা দিতে পারে। সেই সঙ্গেই এদিন নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে হারানোর স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মানুষ পরিবর্তনের জন্য তৈরি।[TECHTARANGA-POST:7142]প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও এদিন সুর চড়িয়েছেন বিরোধী দলনেতা। পুলিশ ও প্রশাসনের একটি বড় অংশ শাসকদলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে বলে তাঁর অভিযোগ। বিশেষ করে প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, রাজীব কুমার এখন ডিজি পদে না থাকলেও সরকারি বাংলো দখল করে বসে আছেন, যা আদতে অনৈতিক। শুধু তাই নয়, রাজীব কুমারকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘তাঁকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া উচিত’। পয়লা বৈশাখের পরেই নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়ে শুভেন্দু জানিয়েছেন, এবারের লড়াই আর আগের মতো সহজ হবে না।