নয়াদিল্লি: বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস বা পিএনজি (PNG) নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যাঁরা এখনও এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার আঁকড়ে ধরে আছেন, তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। আগামী তিনমাসের মধ্যে ওই সমস্ত গ্রাহকদের এলপিজি সংযোগ পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ, ২০২৬) পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ‘প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রলিয়াম পণ্য বিতরণ নির্দেশিকা, ২০২৬’ জারি করে এই কড়া ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7579]বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজির জোগানে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারত তার মোট চাহিদা পূরণের জন্য প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি বিদেশ থেকে আমদানি করে। এই সঙ্কটকালে আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহ দিতেই কেন্দ্র এই পথ বেছে নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের বিশেষ সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, পিএনজির জোগান অবাধ এবং এটি এলপিজির তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক। বারবার বুকিং করার ঝামেলা নেই। আবার সঙ্কটের সময়েও হেঁশেলে টান পড়ার ভয় থাকবে না।[TECHTARANGA-POST:7577]কেন্দ্রের নির্দেশ, যে সমস্ত এলাকায় পিএনজি পরিকাঠামো পৌঁছে গিয়েছে, সেখানে এলপিজির পরিবর্তে পিএনজি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পিএনজি সংযোগ না নিলে ৯০ দিনের মধ্যে বর্তমান এলপিজি কানেকশন কেটে দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সরকার নির্দেশ দিয়েছে, আবেদনের তিনদিনের মধ্যে পিএনজির অনুমতি দিতে হবে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংযোগ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। কোনও আবেদনই নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া বাতিল করা যাবে না।[TECHTARANGA-POST:7571]অন্যদিকে, যেসব সংস্থা গ্যাসের পাইপলাইন বসানোর বরাত পেয়েছে, তাদের চারমাসের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে। তাতে ব্যর্থ হলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে। যদি কোনও এলাকায় প্রযুক্তিগত কারণে পিএনজি পৌঁছানো সম্ভব না হয়, একমাত্র তবেই সেখানে এলপিজি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে, তার জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা এনওসি দেখাতে হবে।[TECHTARANGA-POST:7567]তেল সচিব নীরজ মিত্তল মনে করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত ‘সঙ্কটকে সুযোগে পরিণত’ করতে চলেছে। একদিকে যেমন এতে আমদানির খরচ বাঁচবে, অন্যদিকে গ্রাহকরাও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পরিষেবা পাবেন। তবে সরকারের এই আকস্মিক কড়াকড়িতে মধ্যবিত্ত মহলে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সেইসঙ্গে, প্রশ্ন হল - যদি এর ফলে একটি নির্দিষ্ট অংশের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন, তাহলে তাঁদের জন্য বিকল্প কী বন্দোবস্ত করা হবে?
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার