কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়: মুখ্যসচিব ও আধিকারিকদের অপসারণ নিয়ে তৃণমূলের মামলা খারিজ হাইকোর্টে
কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবসহ একাধিক উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক এবং পুলিশকর্তাদের অপসারণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই বহাল রাখল উচ্চ আদালত। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই সংক্রান্ত দুটি পৃথক মামলা খারিজ করে দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কমিশনের নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না।[TECHTARANGA-POST:7711]রাজ্যে ভোট ঘোষণার পরেই গত ১৫ মার্চ রাতে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন জেলার বিডিও এবং থানার ওসি মিলিয়ে আরও ২৬৭ জন আধিকারিককে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিশনের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী অর্ককুমার নাগ।[TECHTARANGA-POST:7700] মামলাকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করেন যে, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশনের ক্ষমতা থাকলেও তা অসীম নয়। রাতারাতি মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দেওয়া এবং তাঁদের ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী বলে তিনি অভিযোগ করেন।[TECHTARANGA-POST:7702]অন্যদিকে, কমিশনের তরফে পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয় যে, নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার জন্যই এই রদবদল জরুরি ছিল। বিভিন্ন রাজ্যের পরিস্থিতি বিচার করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এর নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। দু’পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর মঙ্গলবার আদালত জানিয়ে দেয়, বিডিও ও ওসিদের অপসারণ নিয়ে করা মামলাটিও ধোপে টিকছে না। ফলে হাইভোল্টেজ এই আইনি লড়াইয়ে আপাতত জয় হলো নির্বাচন কমিশনেরই। ভোটের মুখে আধিকারিকদের বদলি নিয়ে কমিশনের হাত আরও শক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা।