রেলগেট খোলা থাকায় যমদূত হয়ে এল ট্রেন! কুমিল্লায় বাসে ধাক্কায় পিষ্ট ১২
বাংলাদেশের কুমিল্লায় এক ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত ১২ জন যাত্রী। শনিবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির মেল ট্রেন রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়া একটি যাত্রীবাহী বাসকে সজোরে ধাক্কা মারলে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনাস্থলেই ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে রেল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির ছবি— অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় লেভেল ক্রসিংয়ের গেটটি খোলাই ছিল।[TECHTARANGA-POST:7504]দুর্ঘটনার পরই ক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা গেটম্যানদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে ইতিমধ্য়েই দুই গেটম্যান হেলাল উদ্দিন এবং মেহেদী হাসানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বাংলাদেশের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ জানান, গেট খোলা থাকার ফলেই বাস চালক রেললাইনে উঠে পড়েন এবং এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে।[TECHTARANGA-POST:7496]এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে মোট তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি কমিটি গড়েছে রেল কর্তৃপক্ষ এবং একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। রবিবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তদন্তে যাঁদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই ধরণের বিপর্যয় রুখতে অরক্ষিত রেলগেটগুলিতে ওভারপাস বা আন্ডারপাস তৈরির পরিকল্পনাও করছে প্রশাসন।[TECHTARANGA-POST:7484]নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছে সরকার। রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রা) দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, কুমিল্লা জেলা প্রশাসন মৃতদের পরিবার পিছু ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7469]শনিবার রাতের এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ফের একবার রেলের নিরাপত্তা ও লেভেল ক্রসিং ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটা অনাবৃত করে দিল।